অর্পিতা আউট, প্রশান্ত কিশোর ইন!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাট্যকর্মীর জায়গায় ভোট কৌঁসুলি?
অর্পিতা ঘোষের ইস্তফা দেওয়ার পর বাংলা থেকে যে রাজ্যসভার আসনটি খালি হয়েছিল, সেই ভোটের দিনক্ষণ গতকালই ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ নভেম্বর ওই আসনে ভোট হবে। তারপর থেকেই তৃণমূ
শেষ আপডেট: 1 November 2021 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাট্যকর্মীর জায়গায় ভোট কৌঁসুলি?
অর্পিতা ঘোষের ইস্তফা দেওয়ার পর বাংলা থেকে যে রাজ্যসভার আসনটি খালি হয়েছিল, সেই ভোটের দিনক্ষণ গতকালই ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ নভেম্বর ওই আসনে ভোট হবে। তারপর থেকেই তৃণমূলের (TMC) মধ্যে জল্পনা, অর্পিতার আসনে কি প্রশান্ত কিশোর প্রার্থী হবেন!
ফিরল লোকালের চেনা ছবি, 'এই ভিড়ে করোনার সংক্রমণই ভবিতব্য', বলছেন যাত্রীরা
এখানে বলে রাখা ভাল, দিদি কাকে প্রার্থী করবেন সে ব্যাপারে তিনি কাকপক্ষীকেও টের পেতে দেন না। এই যে মানস ভুঁইয়ার আসনে দিদি প্রাক্তন আমলা জহর সরকারকে প্রার্থী করবেন কিংবা দীনেশ ত্রিবেদীর আসনে সুস্মিতা দেবকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠাবেন তা কে জানত! ফলে তৃণমূলের মধ্যে যে জল্পনা শুরু হয়েছে তা যে দিদির মুখের কথা শুনে তেমনটা একেবারেই নয়। বরং কিছু ধারণা থেকে অনেক পোড় খাওয়া নেতা মনে করছেন, পিকে-কে দিদি রাজ্যসভায় প্রার্থী করতে পারেন।
কী ধারণা?
তৃণমূলের অনেকে মনে করছেন, ২ মে বিকেলেই প্রশান্ত কিশোর জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর এই ভোট ম্যানেজমেন্টের কাজে থাকবেন না। আপাতত ছুটি নেবেন। তাঁর কথা ছিল,”এবার অন্য কিছু করব!” তারপর থেকে পিকে অনেক কিছু করেছেন। কংগ্রেসের পথে পা বাড়িয়েছিলেন একদা নীতীশ কুমারের দলের এই নেতা। ১০ জনপ্তহে গিয়ে সনিয়া, রাহুলদের সঙ্গে তাঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের দরজা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন তাঁর জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক মঞ্চ তৃণমূলই।
এর মধ্যে পাঞ্জাবে গিয়ে ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংয়ের মুখ্য পরামর্শদাতাও হয়েছিলেন তিনি। তখনও ক্যাপ্টেন জলন্ধরের কুর্সিতে রয়েছেন। তারপর সেই তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেয় কংগ্রেস। এখন তিনি সাবেক দল ছেড়ে নতুন দল গড়ার পথে এগিয়ে গিয়েছেন। যার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত নয়।
তৃণমূলের অনেক নেতার বক্তব্য, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোর যদি নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে চান তাহলে তৃণমূলের থেকে ভাল মঞ্চ এই মুহূর্তে তাঁর সামনে নেই। তা ছাড়া পিকে-র কলকাতা কানেকশনও তৈরি হয়ে গিয়েছে। এখন তিনি ভবানীপুরের ভোটার। যদিও রাজ্যসভায় প্রার্থী হতে গেলে যে এ রাজ্যের ভোটার হতেই হবে তেমন কোনও বিধান নেই। সুস্মিতা দেব তো শিলচরের ভোটার। আবার সিপিএম যখন বাংলা থেকে সীতারাম ইয়েচুরিকে পাঠিয়েছিল তখন তাঁর ভোটার কার্ড বাংলার কোনও ঠিকানায় ছিল না।
অনেকের মতে, প্রশান্ত কিশোর যে ভাবে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানাচ্ছেন সে ভাবেই দিদিও গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির বিরুদ্ধে শব্দ সাজাচ্ছেন। গোয়ায় মমতা পৌঁছনোর একদিন আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন পিকে। সেখানে একটি আলোচনাসভার প্রশ্নোত্তরে বলেছিলেন, মোদী হারলেও বিজেপি আগামী কয়েক দশক ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সেইসঙ্গে রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে এও বলেছিলেন, তিনি ভাবছেন এমনিই বিজেপি হেরে যাবে। আলাদা করে কিছু করতে হবে না । এই ভাবনার কোনও ভিত্তি নেই। তাঁর কথায়, “রাহুল মনে করেন বিজেপির ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। মানুষই মোদীকে সরিয়ে দেবে। কিন্তু তা হচ্ছে না। প্রতিপক্ষের বিষয়ে সঠিক ভাবে না জানলে কখনওই তাঁকে হারাতে পারবেন না।” ঠিক তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গোয়া থেকেই মমতা বলেছিলেন, কংগ্রেসের দুর্বলতার কারণেই মোদীজি শক্তিশালী হচ্ছেন।
এসবের বাইরেও একুশের ভোটে তৃণমূলকে ২০০ পার করিয়ে দেওয়ার জন্য পিকে-র উপহারও ডিউ রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। সব দিক থেকেই তাঁদের ধারণা, অর্পিতাকে দিয়ে আসন ফাঁকা করিয়ে সেখানে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে আসবেন মমতা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'