
শেষ আপডেট: 28 December 2022 01:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: খানাকুল (Khanakul), যা কিনা বর্তমানে তৃণমূলের গড় হিসাবেই পরিচিত, সেখানে আক্রান্ত হলেন খোদ তৃণমূল নেত্রী (TMC leader)। তাও আবার পুলিশের (police) হাতে! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশাল উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। হুগলি (Hooghly) জেলাস্তরে বেশ পরিচিত সেই নেত্রীর অভিযোগ, ওই পুলিশ অফিসার নাকি তল্লাশির নাম করে গ্রিল ভেঙে তাঁদের বাড়ির ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে শাসকদলের কোনও নেত্রী অত্যাচার করার অভিযোগ আনছেন, এমন ঘটনা এই বাংলায় সত্যিই বিরল। খানাকুলে ঠিক সেটাই ঘটেছে। ইতিমধ্যে এই নিয়ে তিনি স্থানীয় বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, মহকুমাশাসক ও আরামবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। জানা গেছে, যখন সেই পুলিশ অফিসার ওই তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে ঢুকেছিলেন, সেইসময় কোনও মহিলা পুলিশ সঙ্গে ছিলেন না। শুধু ভাঙচুর নয়, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন ওই নেত্রী।
এলাকাবাসীদের তরফে জানা গেছে, সোমবার রাতে খানাকুল থানা এলাকায় স্থানীয় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধেছিল। এই ঘটনায় এলাকারই এক বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এরপর রাতেই ওই তৃণমূল নেত্রীর স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর, হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে থানায় যায় বিজেপি।
গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর খানাকুল থানার পুলিশ ওই তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে হানা দেয়। সেই সময়েই বাড়ির গ্রিল ভেঙে ভিতরে ঢুকে পুলিশ ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সেই তৃণমূল নেত্রীর দাবি, 'আমার স্বামী তখন বাড়িতে ছিলেন না। কিন্তু আমার মেয়ে ও শাশুড়ি মা ছিলেন। এইসময় পুলিশকর্মীরা তাঁকে গালিগালাজ করে শারীরিকভাবে হেনস্থাও করে বলে দাবি সেই নেত্রীর।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেন যে, 'তৃণমূলের সেই নেত্রী বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমার মনে হয় ওই পুলিশ আধিকারিক জেনে বুঝেই এই কাজ করছেন। এভাবে চলতে থাকলে খানাকুলের মানুষের প্রশাসনের উপর ভরসা হারিয়ে নেবে। ওই নেত্রী বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁর মনে হচ্ছে, পুলিশ আবার মাঝরাতে গিয়ে বাড়ি ঘর ভাঙচুর করবে।'
উল্লেখ্য, বাম আমলে এই খানাকুল ছিল সিপিএমের দূর্গ। ১৯৯৯-২০০১, এই তিন বছরে খানাকুলে তৃণমূল কংগ্রেস মাথা তুলেছিল বটে, তবে সিপিএমের স্থানীয় শক্তি এরপর তৃণমূলকে সেখানে পুরো ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছিল। এরপর ২০১১ অবধি বাকি সময়টা সিপিএমই ছিল সেখানকার রাজা। তবে এগারোর পর রাজ্যে পালাবদল হতেই পুরো খানাকুল চলে যায় তৃণমূলের দখলে। সিপিএম-বিজেপির ক্ষমতা তো দূরের কথা, ঘাসফুল শিবিরের পতাকা ছাড়া সেখানে অন্য দলের পতাকা দেখতে পাওয়াও ডুমুরের ফুল দেখার মতো।
এমন একটা জায়গায় খোদ এক তৃণমূল নেত্রী শারীরিক নির্যাতন এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ করছেন, তাও আবার পুলিশের বিরুদ্ধে। ফলে এই অভিযোগ যে বেশ গুরুতর, তা বলাই বাহুল্য।
আবাস যোজনায় নাম বাদ যাওয়ায় পোস্টারে প্রতিবাদ ভাতারের শিল্পীর