
শেষ আপডেট: 23 April 2023 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। স্কুলের চাকরি হোক বা অন্য কিছু, লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসক দল তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন অনেকে। চারিদিকে যখন দুর্নীতি আর কোটি কোটি টাকার গন্ধ, তখন এমনই একজন জনপ্রতিনিধির কথা সামনে এসেছে, যিনি এই বাজারেও মাত্র ৫ হাজার টাকায় সংসার চালান। মুখ্যমন্ত্রীর টালির চালের বাড়ির কথা সবাই জানলেও অনেকেই জানেন না, তাঁরই দলের এক জেলা পরিষদ সদস্য (TMC leader) নবদ্বীপের আরতি দেবনাথের (Arati Debnath) বাস টিনের চালের বাড়িতে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে বহু মানুষের বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন আরতি, কিন্তু নিজের বাড়িটুকুই সরিয়ে উঠতে পারেননি। বর্ষার বৃষ্টিতে এখনও সেই টিনের চালের ফাঁক দিয়ে জল পড়ে ঘরে, ভিজে যায় বিছানা।
আরতি দেবনাথের বাড়ি নবদ্বীপ (Nabadwip) সিএমসিবি পঞ্চায়েতের চরব্রহ্মনগর মাঝেরপাড়ায়। বয়স ৬০ পেরিয়েছে বহুদিন। বাবা চন্দ্রমোহন দেবনাথ ছিলেন এলাকার অত্যন্ত জনপ্রিয় কংগ্রেস নেতা। তিনি ছিলেন সিএমসিবি পঞ্চায়েতের পূর্ব গ্রাম সভার অধ্যক্ষ। আরতির বয়স তখন মাত্র ২০ বছর, সন্তান, পরিবার সকলকে ফেলে পরলোকে চলে গেলেন চন্দ্রমোহন বাবু। মা মারা গিয়েছিলেন আরও আগে। বাবা চলে যাওয়ার পর পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ল আরতির উপরেই। বাবার তাঁতের ব্যবসা সামলেছেন একা হাতে, ভাইবোনদের মানুষ করেছেন। সবদিক সামলাতে গিয়ে নিজের আর বিয়ে করে ওঠা হয়নি। টিনের চালের ভাঙাচোরা পৈত্রিক দোতলা বাড়ি, সেখানেই ৬৭ বছর ধরে রয়ে গেছেন আরতি।
'৯৮ সালে তৃণমূল যখন নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল, তখন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সেনানী আরতি। ঠিক করেছিলেন জনগণের সেবাতেই উৎসর্গ করবেন নিজেকে। তাইই করে চলেছেন আজও। এখনও পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের হয়ে টানা ৫ বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সিএমসিবি পঞ্চায়েত প্রধান, নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সব ভূমিকাতেই সফল আরতি। বর্তমানে তিনি নবদ্বীপের জেলা পরিষদ সদস্য। সেই ভাতাতেই সংসার চলে।
২০০৬ সালে নির্মল গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বীকৃতি পেয়েছিল সিএমসিবি পঞ্চায়েত। তখন আরতি ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান। সেই হিসেবেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের হাত থেকে পুরস্কার নিয়ে এসেছিলেন আরতি।
দোতলা বাড়িতে টিনের চালে একাধিক ফুটো, জায়গায় জায়গায় জল পড়ে। ভাঙাচোরা অবস্থা ঢাকতে দেওয়ালের এদিকে ওদিকেও টিন দিয়ে ঘেরা। সেই বাড়ির একটা ঘর আরতির নিজের। সেই ঘরেই ভিতরেই রান্না করেন নিজের হাতে। নিয়মিত জেলা পরিষদের অফিসে যান বাসে, টোটোয় চড়ে।
এত লোককে সরকারি ঘর পাইয়ে দিয়েও নিজে ভাঙা বাড়িতে থাকেন কেন? আরতির জবাব, 'সরকারি বাড়ির জন্য কোনওদিন আবেদন করিনি। আমার ভাইবোনরাও পায়নি। কী হবে, আমি তো আর গাছতলায় পড়ে নেই!'
স্থানীয়দের কাছে আরতি একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধি। এমনকী, সিপিএমের অনেকের মুখেও তাঁর প্রশংসা শোনা যায়। অনেকেই বলেন, তৃণমূলের উপরমহলের লোকজন তেমন খোঁজ রাখেন না আরতির। তাতে অবশ্য আক্ষেপ নেই তাঁর। যে মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের থেকে অকুণ্ঠ ভালবাসা পান। তাতেই তাঁর চলে যায়।
পঞ্চায়েতমন্ত্রী সরকারি হাসপাতালে লাইন দিয়ে টিকিট কাটালেন, আউটডোরে ডাক্তার দেখালেন