
শেষ আপডেট: 27 August 2022 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: জমি বিক্রি নিয়ে হুগলির (Hooghly) কোন্নগর তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ আনলেন চিকিৎসক কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, জমি বিক্রি নিয়ে তাঁকে রীতিমত চাপ দিচ্ছেন তৃণমূল পরিচালিত কোন্নগর পুরসভার (Konnagar Municipality) চেয়ারম্যান স্বপন দাস ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সনাতন বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণালবাবুর অভিযোগ, পুরসভার স্থির করা দামেই তাঁকে বিপুল পরিমাণ জমি দিয়ে দিতে বলা হয়েছে। নাহলে মেরে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এই দু'জন। কোন্নগরে এখন জমি মাফিয়াদের (land mafia) রাজ চলছে।
জানা গেছে, কোন্নগরের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে গঙ্গার পাড়ে প্রায় ১৮ কাঠা জমি আছে বেলুড়ের বাসিন্দা চিকিৎসক কুনাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ডাক্তারবাবুর অভিযোগ, 'গত ১৯ অগস্ট জন্মাষ্টমীর দিন আমায় কোন্নগর পুরসভায় ডাকা হয়। সেদিন পুরসভা ছুটি ছিল। পুরসভার কনফারেন্স রুমে নিয়ে গিয়ে বলা হয় কুড়ি লাখ টাকার চেক রাখুন, জমিটা একজনের নামে লিখে দিন। ওরা বেশ কিছুদিন ধরেই হুমকি দিচ্ছে যে, এই ১৮ কাঠা জমি পুরসভা দখল করে নেবে। কিন্তু এত পরিমাণ জমি মাত্র কুড়ি লাখ টাকায় দিতে রাজি হইনি। এরপরই আমাকে মেরে গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।'
কুণালবাবু বলেন, 'পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার আমার কলার ধরে হুমকি দিয়ে বলল, এখন তৃণমূলের সরকার চলছে। এটা তৃণমূলের গুণ্ডামি ধরে নিন।' জানা গেছে, এর পরদিনই কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরপাড়া থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সনাতন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। তিনি বলেন, স্বপন দাস একজন জমি মাফিয়া। সে গা জোয়ারি করে জমি দখল করতে চাইছেন।
চাঁচলে বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য এলাকায়
এদিকে, পাল্টা নিজের বক্তব্যও জানান সনাতন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, 'কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাসের নির্দেশে আমি কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে কথা বলেছিলাম। ১৮ কাঠা নয়, মোট তিন কাঠা জমির প্রয়োজন ছিল পুরসভার।যেখানে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরি করা হবে। কিন্তু ডাক্তারবাবু মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পুরসভা জমি নেবে, তার জন্য আমি কেন গুণ্ডামি করতে যাব! এর পিছনে অসাধু কোনও চক্র কাজ করছে।'
অন্যদিকে, কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, 'চিকিৎসক কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক দিন ধরেই পুরসভায় ঘুরছেন ওই জমিতে ফ্ল্যাট করবেন বলে। কিন্তু পোর্টট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী গঙ্গা থেকে যতটা জমি ছেড়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি নির্মাণ করা যায় সেটা ওই জমিতে হবে না। কোন্নগরে একটি বৈদ্যুতিক চুল্লির প্রয়োজন। এবিষয়ে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কোন্নগর, নবগ্রাম, কানাইপুর, ডানকুনি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের প্রয়োজন এই বৈদ্যুতিক চুল্লি।আমরা তিন কাঠা জমি কুড়ি লক্ষ টাকা দিয়ে কিনতে চেয়েছিলাম। পুরসভাই সেই টাকা দেবে। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এখন মিথ্যা অভিযোগ করছেন, বলছেন জমি মাফিয়া। তৃণমূলের বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি মানহানির মামলা করব।'