
শেষ আপডেট: 5 July 2021 14:03
বাংলার হাতে গোনা যে কয়েকজন নেতা জাতীয় স্তরে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দাপট দেখিয়েছেন তাঁদের মধ্যে বরকত সাহেব ও প্রণববাবু কিংবদন্তী। ইন্দিরা গান্ধী থেকে রাজীব গান্ধী কিংবা পরবর্তী সময়ে সনিয়া পর্যন্ত সমীহ করতেন যাঁদের। বরকতসাহেব রেলমন্ত্রী ছিলেন। প্রণববাবু অর্থ, প্রতিরক্ষার মতো দফতর সামলেছেন দীর্ঘদিন। সেই দুই বাড়িতে তৃণমূলের ঢুকে পড়াকে রাজনৈতিক ভাবে অর্থবহ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।
গনিখানের পরিবারের প্রথম ভাঙন ধরেছিল ২০১৫ সালে। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তাঁর ভাই আবু নাসের খান চৌধুরী। যাঁকে লেবুবাবু বলে জানেন অনেকে। তখন তিনি সুজাপুরের কংগ্রেস বিধায়ক। কিন্তু রাজনীতিতে তাঁর তেমন নড়াচড়া ছিল না। তাই তেমন চর্চা হয়নি। কিন্তু কোতোয়ালির চৌধুরী বাড়িতে বড় ধাক্কাটা লাগে উনিশের লোকসভার আগে।
দেখা যায় তৃণমূলের তৎকালীন মালদহ জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন মৌসম বেনজির নূর। তারপর দিদি মৌসমকে মালদহ উত্তরে লোকসভা ভোটে টিকিটও দিয়েছিলেন। কিন্তু সিপিএম থেকে বিজেপিতে যাওয়া খগেন মুর্মুর কাছে হারতে হয় তাঁকে।
যদিও ভোটের পরে মৌসমকে ধরে রাখতে তৃণমূলও ঢেলে দিয়েছিল। প্রথমে তাঁকে মালদহের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, সাবিত্রী মিত্রদের কোন্দলে বিদীর্ণ মালদহ তৃণমূলে 'ফ্রেশ লেগ ইনজেক্ট' করে খেলা ঘোরাতে চেয়েছিলেন দিদি। হয়েছেও তাই। আগে লোকে বলত, মালদহ মানে কংগ্রেসের দুর্গ। গনিখানের জেলা। সেসব প্রবাদ চুকেবুকে গেছে একুশের ভোটে। আশাতীত সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। তার মাঝে আবার মৌসমকে রাজ্যসভাতেও পাঠিয়েছে তৃণমূল।
আজ তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রণব-পুত্র। অনেকের মতে, অভিজিতের সেই অর্থে রাজনৈতিক ওজন না থাকলেও তৃণমূল জনমানসে এই ধারণা তৈরি করত পারবে যে দ্যাখো, প্রণববাবুর পরিবার থেকেও তৃণমূলে শামিল হচ্ছে। অভিজিৎ অবশ্য বলেছেন কোনও স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৃণমূলে আসেননি। সেই মনোভাব থাকলে ভোটের আগেই আসতে পারতেন। কংগ্রেস ছাড়ার কারণ হিসেবে অভিজিৎবাবু জানিয়েছেন, বামেদের সঙ্গে জোট করাকে তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি।
যদিও ওদিকে যেমন গনিখানের আরএক ভাই ডালুবাবু (সাংসদ), ভাইপো ঈশা খান চৌধুরীরা এখনও কংগ্রেসে রয়েছেন তেমনই প্রণব-কন্যা তথা অভিজিতের বোন শর্মিষ্ঠাও দিল্লি কংগ্রেসের মুখপাত্র। দাদার তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়াই দেননি বোন। ভাল-মন্দ কিচ্ছু না।
তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বহমান রাজনীতির ইতিহাসে এটা লেখা থাকবে, বাংলায় কংগ্রেসের দুই মহীরুহের পরিবারে ভাঙন ধরিয়েছে তৃণমূল। কোতোয়ালির পর কীর্ণাহারে।
কংগ্রেস ভেঙেই তৃণমূলের জন্ম। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল তৈরির পর দলে দলে কংগ্রেসের নেতা কর্মী জোড়া ফুলের ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু পুরনো বট গাছের মতো কংগ্রেসের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবার। একে একে সেই কংগ্রেসের প্রতীক হয়ে থাকা পরিবার গুলিতেও ভাঙন ধরিয়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী। অভিজিৎ এদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল তো কংগ্রেসেরই একটা শাখা। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ কংগ্রেসের যা হাল হয়েছে তাতে তৃণমূলই বাস্তবে মূল কংগ্রেসে হয়ে উঠেছে রাজ্যে।