দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিলচর বিমানবন্দরে নামতেই বৃহস্পতিবার বেলায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে আটকে দিয়েছিল সেখানকার প্রশাসন। জানিয়ে দিয়েছিল ১৪৪ ধারা চলার কারণে সেখানে ঢোকা যাবে না। এরপর সন্ধে বেলা হোটেলে যাওয়ার কথা বললেও বিমানবন্দর থেকে আর বের হননি তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়করা। কোনও রকমে খাবার জুটিয়ে সারা রাত লাউঞ্জে কাটিয়ে শুক্রবার সকালের প্রথম বিমান ধরেই কলকাতায় ফিরে এলেন তাঁরা।
সোমবারই দিল্লি রওনা হওয়ার আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন অসমে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। সেই মতো গতকাল শিলচরে পৌঁছন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুখেন্দু শেখর রায়, ফিরহাদ হাকিম, মহুয়া মৈত্র, অর্পিতা ঘোষ, মমতাবালা ঠাকুররা। অসম পুলিশের তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে ঢুকতে বাধা দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। বিকেল ৪ টে ৫০ মিনিটে শেষ বিমান উড়ে যাওয়ার পর তাঁদের বলা হয় হোটেলে যাওয়ার জন্য। নেত্রী বলে দেন, “ওঁরা কি মাছ-ভাত খেতে গিয়েছে নাকি?” এরপর আর বিমানবন্দর থেকে বাইরে যাননি তাঁরা।
মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের পরিচিতদের খবর দিয়ে রুটি-তরকারি এনে রাতের খাওয়ার সারেন তাঁরা। লাউঞ্জের সোফাতেই সারতে হয় রাতের ঘুম। সন্ধের পর আর কোনও প্রশাসনিক কর্তা এসে কথা বলেননি তাঁদের সঙ্গে। ফলে মোবাইলে চার্জার লাগিয়ে ফোনাফুনি করা ছাড়া সারা সন্ধে আর কোনও কাজই ছিল না এই প্রতিনিধিদলের। প্রতিনিধি দলে ছিলেন একাধিক মহিলা সদস্য। সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের বুকেও বসানো আছে পেসমেকার। ফলে চূড়ান্ত অব্যবস্থায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ তৃণমূল।
শিলচর বিমানবন্দরের ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সুপার এমার্জেন্সি চলছে।” তৃণমূল অভিযোগ করে তাঁদের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিগ্রহ করেছে অসম পুলিশ। কিন্তু রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায়, পুলিশ অনুনয়বিনয় করলেও পুলিশকর্মীকে ধাক্কা মারছেন তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। রাতে অবশ্য শিলচর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বসেই নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে হাতের আঘাতের ছবি পোস্ট করেন মহুয়া।
কলকাতায় ফিরেই মমতা বালা ঠাকুর সহ কয়েকজন সাংসদ লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লি উড়ে গিয়েছেন। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, শিলচর কাণ্ড নিয়ে সংসদের দুই কক্ষেই বিজেপি’র বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনা হবে।