দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবারই গ্রেফতার হয়েছেন বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ার বালিতে তিনি তৃণমূল নেতা বলেই পরিচিত। আর তাঁর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ যে তিনি তোলাবাজির জন্য এমনটাও বলেন যে, তাঁর নাম শুনলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চমকে ওঠেন। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান মুকুল রায়, মদন মিত্র। বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়ার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিশ্বজয় আপাতত পুলিশ হেফাজতে। এদিকে জেলা তৃণমূলের দাবি, নিজেকে দলের নেতা দাবি করা বিশ্বজয় আদৌ তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নন।
আরও পড়ুন
লালবাবা কলেজ থেকে বেলুড় স্টেশন যাওয়ার রাস্তায় কিছুটা গেলেই পাঠকপাড়া। সেখানকার বাসিন্দা বিশ্বজয় সক্রিয় রাজনীতি করেন না বলে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করলেও এলাকার মানুষ তাঁকে শাসক দলের নেতা হিসেবেই চেনে। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসাও আছে। 'ধ্রুবতারা' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালানো বিশ্বজয় আদতে বিমা সংক্রান্ত কাজকর্ম করেন। তবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে দাবি করে থাকেন। আর সেটা নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও উল্লেখ করে রেখেছেন।

সম্প্রতি বালিতে একটি নির্মাণ নিয়ে বিবাদ বাঁধে বিশ্বজয় ঘোষের সঙ্গে এক নির্মাণকারী সংস্থার। প্রোমোটারকে টেলিফোন করে তিনি হুমকি দেন বলেও অভিযোগ। সেই হুমকি ফোন রেকর্ড করে পুলিশকে দেয় নির্মাণকারী সংস্থা। টেলিফোনে কথোপকথনের সময়ে বিশ্বজয় এমনটাও নাকি বলেন যে, তাঁর নাম শুনে তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চমকে ওঠেন। শুধু তাই নয়, তিনি এমনটাও বলেন যে, মুকুল রায় ও মদন মিত্ররাও নাকি তাঁর কথায় তিড়িং করে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন। তাঁর কথা শোনা না হলে তিনি কী করতে পারেন তা দেখিয়ে দেবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই কথোপকথন নিয়ে হাওড়া জেলা তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। অনেকেরই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় তোলাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং সেটা দলের সকলেরই জানা। এই প্রসঙ্গে বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া বলেন, "মহেশ সুরাখা নামে এক প্রোমোটার নিয়ম না মেনে গঙ্গার পার বুঝিয়ে বহুতল নির্মাণ করছিলেন। এনিয়ে এলাকার মানুষ সরব হয়েছেন। তবে বিশ্বজয় বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কী বলেছেন তা তিনি জানেন না।"
অনেকেই বলছেন বিশ্বজয় বৈশালীর ঘনিষ্ঠ। বিশ্বজয়ের ফেসবুক প্রোফাইল দেখলেও তেমনটাই মনে হয়। প্রোফাইল জুড়ে বৈশালী সম্পর্কিত পোস্টের পর পোস্ট। এছাড়াও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রর সঙ্গেও একাধিক ছবি রয়েছে ফেসবুকে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশ্বজয়ের হাজির থাকার ছবিও রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিধায়কের বক্তব্য, "রাজনীতি করতে গেলে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। কে কী পোস্ট করেছে তা আমি জানি না। তবে এটা জানি যে, ওই ব্যক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও দায়িত্বে নেই।"
একই কথা বলেছেন, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, "জানি না উনি কী কী বলেছেন। তবে আমাদের দলে ওই নামে কেউ নেই। তাছাড়া কোনও নির্মাণ আইনি না বেআইনি সেটা দেখার দায়িত্ব পুরসভার। কোনও ব্যক্তির নয়।" বর্তমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মীরতন শুক্লাকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রবিবার পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে বিশ্বজয় সাংবাদিকদের বলেন, "আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্যই এই পরিণতি। অন্যায় দেখলেও চুপ থাকতে হবে।" আপাতত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে বিশ্বজয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা হচ্ছে এই এলাকায় তোলাবাজির সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত।