
শেষ আপডেট: 28 May 2023 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরা কোন দলে আছেন? এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে, কাঁথির অধিকারী পরিবারের কর্তা শিশির অধিকারী ও তাঁর পুত্র দিব্যেন্দুকে ঘিরে (Sisir Adhikari)। এবার নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে শিশিরবাবুকে দেখা যেতেই জল্পনায় ঘি পড়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সঙ্গে একেবারে শুরু থেকে রয়েছেন প্রবীণ সাংসদ শিশিরবাবু। কাঁথি দক্ষিণ ও এগরা থেকে বিধায়ক ছিলেন দীর্ঘদিন। কিন্তু ২০২০ সালে পুত্র শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দিতেই এখন রাজনীতির জটিল অঙ্ক তৈরি হয়েছে। শুভেন্দুর পথ ধরে বিজেপিতে যান তাঁর ভাই সৌমেন্দুও। সেই সময় মোদী-হাওয়ায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী ‘দলে থেকে কাজ করতে পারছি না’ বলে গুটি গুটি পায়ে পদ্মের দিকে হেলেছিলেন। কয়েকজন তো বিশেষ বিমানেও দিল্লি গিয়েছিলেন। পরে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল স্বমহিমায় ফিরতেই আবার গড়গড় করে ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরে এসেছিলেন।
ব্যতিক্রম শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তৃণমূলে ফেরেননি, উলটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন। আপাতত তিনিই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। নিরন্তর তাঁর আক্রমণের মুখে পড়ে শাসক দল। তবে বিরোধী দলনেতার বাবা শিশিরবাবু ও ভাই দিব্যেন্দু খাতা কলমে তৃণমূলের সাংসদ। কিন্তু তাদের অবস্থান নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছে স্বয়ং তৃণমূল কংগ্রেস।
যদিও একাধিকবার দিব্যেন্দু অধিকারী বলেছেন, তিনি তৃণমূলেই আছেন। কিন্তু দলীয় সূত্রের খবর, অধিকারী পরিবারের এই দুই সাংসদের সঙ্গে কার্যত কোনও সম্পর্কই নেই তৃণমূলের সঙ্গে। উল্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলার বিধানসভায় ভোট না দিয়ে দিল্লি গিয়ে ভোট দিয়েছেন এই পিতা-পুত্র দুই সাংসদ। সেইসময় তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, ‘উনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিজেপির সঙ্গেই আছেন’।
এবার নতুন সংসদ উদ্বোধন নিয়েও বিতর্কে শিশিরবাবু্রা। কংগ্রেস, তৃণমূল সহ একাধিক দল আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা অনুষ্ঠান বয়কট করবে। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ, বিরোধীদের পরিসর না দেওয়া, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ব্রাত্য রাখা-সহ একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে কার্যত তুলোধোনা করেছিলেন মমতা। কিন্তু দেখা গেল, তৃণমূলের টিকিটে জেতা সাংসদ শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারী দু’জনেই রয়েছেন নবনির্মিত সংসদ ভবনের লোকসভার আসনে। ভাষণের পর প্রধানমন্ত্রী নেমে আসেন সেখানে। একের পর এক শাসক ও অনুসারী দলের সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় শিশিরবাবুকে। সূত্রের খবর, শিশিরবাবুর স্বাস্থ্যের খোঁজও নেন প্রধানমন্ত্রী।
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পার্টির তরফ থেকে কোনওরকম কিছু জানানো হয়নি আমাদের। কেউ আমাদের আসতে বারণও করেনি। আমি পুরনো সংসদে বসার সুযোগ পেয়েছি। আজ নতুন সংসদেও ঢুকতে পারলাম। এটা আমার জন্য গর্বের। এর মধ্যে রাজনীতি না দেখাই ভাল’। তবে বিষয়টিকে তৃণমূল কীভাবে নেয় এখন সেটাই দেখার।
বহুতলের চাপে বসে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক, গোটা জীবজগতের ওজনকে ছাপিয়ে গিয়েছে কংক্রিট