দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: লকডাউন শিথিল হতেই শাসক-বিরোধী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের গলসি। সোমবার গলসির পরাজ মোড়ে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের। সংঘর্ষে জখম হয়েছেন দু'পক্ষের প্রায় দশজন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন এক নিরীহ গ্রামবাসীও।
আহতদের প্রথমে পুরসা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তিনজনকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন এখানকার ডাক্তাররা। গলসি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। বিজেপির অভিযোগ, পারাজ গ্রামে তাঁদের কর্মী সমর্থকরা পতাকা লাগাতে গেলে বাধা দেয় তৃণমূল। তাঁদের কর্মী সমর্থকদের লক্ষ্য করে বোমা মারা হয় বলেও অভিযোগ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। এরপরে গতকালই গলসি থানায় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। বিজেপি কর্মীরা জানান, থানায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নালিশ জানানোর পরই পারাজ মোড়ে বিজেপি কর্মী মঙ্গল কেসের খাবারের দোকানে ভাঙচুর করে তৃণমূল সমর্থকরা। রবিবার মঙ্গল দোকান ঠিক করতে গেলে ফের গোল বাঁধে। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা । তারপরেই হাতাহাতিতে জড়ায় দু'পক্ষ।
সংঘর্ষে জখম হন এক গ্রামবাসী সহ মোট দশজন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বিজেপি কর্মী সমরেশ নায়েক, তৃণমূল কর্মী সেখ রিপন এবং জখম গ্রামবাসী সন্তোষ বাগদির চিকিৎসা চলছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় গ্রামে। বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এখনও পুলিশের টহলদারি চলছে।
জেলা পরিষদের সহ সভাপতি তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘‘এই এলাকা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তাই অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিজেপি। ওদের কর্মী সমর্থকরাই পতাকা টাঙানোর নামে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করে। আমাদের কর্মী সমর্থকদের উপর আচমকা এসে চড়াও হয়। মারধর করে। সবাই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। বাধা দেওয়ার কোনও সুযোগই পাননি কেউ।’’
অন্যদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীর পাল্টা দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের হামলার নিশানা হচ্ছেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দলের কর্মীরা পতাকা লাগাতে গেলে ওরা বাধা দেয়। আমাদের দলের এক কর্মীর দোকান ভাঙচুর করে। তারপরেও বলছে, ওরা নয়, হামলা করেছে বিজেপি। এইভাবে বেশিদিন মানুষকে ভুল বোঝানো যাবে না।’’