
শেষ আপডেট: 4 October 2020 12:25
দীর্ঘক্ষণ মেয়েকে ফোনে না পেয়ে চিন্তিত ছিলেন সালমা খাতুনের বাপের বাড়ির লোকজন। ওই বধূর মোবাইল ফোন সুইচ অফ থাকায় শঙ্কিত আত্মীয়স্বজনেরা পরেরদিন বেলার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে এসে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনেন। সারাদিন খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় সন্দেহ হয় বাড়ির লোকের। বিস্তারিত ঘটনা জানার পর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও৷ খবর যায় পুলিশেও।
গতকাল শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ পুকুর থেকে ওই বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবার ও উত্তেজিত গ্রামবাসী ওই গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে হাসনাবাদ থানার জয় গ্রামের মেয়ে সালমার সঙ্গে বসিরহাটের কোদালিয়া গ্রামের আব্দুল সাইদের বিয়ে হয়। গায়ের রং কালো হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই লাঞ্ছনাগঞ্জনা সইতে হত সালমাকে। এর পাশাপাশি পণের দাবিতে মানসিক নির্যাতনও চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। ওই দম্পতির একটি দুবছরের পুত্রসন্তানও আছে। সন্তান জন্মের পরও নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি সলমা। পণের দাবিতে, এমনকি তাদের দু'বছরের ছেলের সামনেও ওই গৃহবধূর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হত বলে অভিযোগ।
পুলিশের জেরায় ওই বধূকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ধৃত স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়িকে আজ রবিবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হবে।