দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ডায়মন্ড হারবারের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, “তোলাবাজ তো তুমি! নারদ কাণ্ডে তোমাকে কাগজে মুড়ে টাকা নিতে দেখেছে সবাই।”
অভিষেকের সেই মন্তব্যকেই সামনে রেখে এখন অধীর চৌধুরীরা প্রশ্ন তুলছেন, তা হলে সাংসদ সৌগত রায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমদের জন্যও কি সে কথা প্রযোজ্য? নারদ কাণ্ডের ফুটেজে এই নেতাদেরও দেখা গিয়েছিল। (নারদের ওই ফুটেজের সত্যতা দ্য ওয়াল অবশ্য যাচাই করে দেখেনি)
সোমবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিরোধীরা বলছেন, নারদে যাঁদের টাকা নিতে দেখা গিয়েছে তা হলে কি সবাই তোলাবাজ? এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?
জবাবে সুব্রতবাবু বলেন, “এটা উনি (পড়ুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বলেছেন, উনিই এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। আমাদের পক্ষে এটা বাইরে থেকে বলা সম্ভব নয়”। তাঁর কথায়, “কারও ব্যক্তিগত মতামত আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না।”
ষোল সালের বিধানসভা ভোটের আগে ১৪ মার্চ নারদ স্টিংয়ের ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন ম্যাথু স্যামুয়েল। শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ওটা ভুয়ো ফুটেজ। পরে তিনি বলেছিলেন, ভোটের সময় চাঁদা দেবে বলে ফাঁসানো হয়েছিল। আবার প্রচারে বেরিয়ে এক সময়ে তিনি বলেছিলেন, আগে জানলে টিকিট দিতাম না। জানা গিয়েছিল, তিনি সেই কথা বলার পর, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ঘরোয়া ভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তা হলে কি তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করে দেবেন যে তিনি ভোটে লড়ছেন না। তবে সুব্রতবাবুকে অবশ্য বুঝিয়ে শান্ত করা হয়েছিল।
নারদ কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত এখনও চলছে। তার নিষ্পত্তি হয়নি। তবে অভিযুক্তদের বেশিরভাগেরই বক্তব্য, ভোটের সময়ে চাঁদা হিসাবে তাঁরা সেই টাকা নিয়েছিলেন। কোনও কাজ করিয়ে দেওয়ার শর্তে বা বিনিময়ে টাকা নেননি। তা চাঁদা হিসাবে নিয়েছিলেন তাঁরা। এমনিতে রাজ্য রাজনীতিতে নারদ কাণ্ডের প্রাসঙ্গিকতা কমে এসেছিল। তবে গতকাল অভিষেকের কথায়, তা নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। তাঁদের এও মত, এতে সৌগত রায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো নেতাদেরও কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে বইকি।