দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন, শুভেন্দু বিজেপিতে গেলে একা যাবেন না। অনেককে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। শনিবারের বার বেলায় তাই হয়েছে মেদিনীপুর কলেজিয়েট ময়দানে। ৯ বিধায়ক (তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম মিলিয়ে) এক সাংসদ, এক প্রাক্তন সাংসদ, এক প্রাক্তন মন্ত্রী, অসংখ্য কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য মিলিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার তালিকাটা হয়তো খড়্গপুর প্ল্যাটফর্মের থেকেও লম্বা। আর সেই যোগদান সম্পন্ন হওয়ার পর কানায় কানায় পূর্ন সমাবেশে বক্তৃতা করতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের শ্লেষ, “দিদি, সবে তো শুরু। ভোট আসতে আসতে দেখবেন আপনি একা পড়ে রয়েছেন।”
তৃণমূল কংগ্রেসে যে ভাঙন হতে পারে সে গুঞ্জন বাংলার রাজনীতিতে ছিলই। এদিন দেখা গেল সত্যিই বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছে শাসকদল। অমিত শাহ বক্তৃতা করার আগেই ভিতরের সমস্ত যন্ত্রণা ঢেলে দিয়ে বক্তৃতা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তরুণ এই নেতার রেশ ধরেই অমিত শাহও চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান তৃণমূলনেত্রী তথা শাসকদলের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দিদি আপনিও তো কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস করেছিলেন। তাহলে সেটা কি দলবদল ছিল না? আর আজ যখন ভাই শুভেন্দু বিজেপিতে সামিল হচ্ছেন তখন বলছেন দলবদল?”
ডায়মন্ড হারবারে বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার কনভয়ে হামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে শাহের বক্তৃতায়। তিনি বলেন, “নাড্ডাজির কনভয়ে বড় বড় পাথর ছোড়া হল। দিদি, আপনি কী ভাবলেন? আমরা এতে ভয় পেয়ে যাব? আমাদের ৩০০-র বেশি কর্মীর জান চলে গিয়েছে। এসবে আমাদের ভয় পাওয়াতে পারবেন না।”
একুশের বিধানসভায় বাংলায় বিজেপিরই সরকার হচ্ছে বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দেন শাহ। তাঁর কথায়, “যে সুনামি মেদিনীপুরের মাঠে আছড়ে পড়েছে তা দিদিও কল্পনা করতে পারেননি। লোকসভায় বলেছিলেন বিজেপি নাকি খাতা খুলতে পারবে না। বাংলার মানুষ আমাদের ১৮টি আসন দিয়েছেন। একুশের বিধানসভায় ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার হবে।”
এদিনও দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাংলায় বাস্তবায়িত হতে না দেওয়া নিয়ে সরব হন শাহ। বলেন, “বাংলার কৃষকরা বছরে ছ’হাজার করে টাকা পাচ্ছেন না। মোদীজি টাকা দিচ্ছেন আর দিদি আটকে রাখছেন। উমফান ঘূর্ণিঝড়ে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিল। কিন্তু দেখা গেল সব টাকা তৃণমূলের গুণ্ডাদের পকেটে চলে গেছে।”