দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ কালীপুজো (Diwali) শেষ। গৃহস্থের দুয়ারে দুয়ারে এখন ব্যবহার হয়ে যাওয়া মাটির প্রদীপ ধুলোয় গড়া গড়ি যাচ্ছে। কিন্তু ফেলে দেওয়া সেই মাটির প্রদীপগুলি এখন সিরাজ, ফিরোজ, রুবেলদের কাছে খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস। তাই সেগুলো সংগ্রহ করতে সীমান্ত পেরিয়ে আসে তারা। স্থানীয় ভাষায় গোছা কুড়োনো বলা হয়।
মেখলিগঞ্জের বাগডোকরা ফুলকাডাবরির খোলা সীমান্তে বিএসএফের কড়াকড়ি থাকলেও কচিকাঁচাদের মুখ দেখে নরম হয়ে যান জওয়ানরাও। বাগডোকরা ফুলকাডাবরি সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার বঙ্গেরবাড়ি, বোলোরবাড়ি, প্রধানের বাড়ি রয়েছে। সেই এলাকার কচিকাঁচারা প্রত্যেক বছর কালী পুজোর অপেক্ষায় থাকে। পুজোর পরদিন ব্যবহার হয়ে যাওয়া মাটির প্রদীপ সংগ্রহ করতে আসে রুবেল সিরাজ ফিরোজের মত বাংলাদেশী কঁচিকাচার দল।
তারা জানায়, এই মাটির প্রদীপ দিয়ে তারা রান্নাবাটি খেলে। তাই এগুলো তাদের কাছে খুবই দরকারি। ছোট রুবেল আহমেদ জানায়, সে ভাই, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে প্রদীপ সংগ্রহ করতে ভারতে আসে ৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রদীপ চাইলে লোকজন তাদের ভালবেসে প্রসাদ খাওয়ান, প্রদীপও দেন।
ভারতের সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলির বাসিন্দা ভারতী রায়, চঞ্চল রায় পাটোয়ারী, সাবিত্রী রায় পাটোয়ারীরা জানান, তারাও রুবেল ফিরোজদের জন্য অপেক্ষায় থাকেন।
ভারতী রায় বলেন,কালীপুজোয় যে প্রদীপ ব্যবহার করা হয়, সেগুলি পুজোর পর দিন বাংলাদেশ থেকে বাচ্চারা নিতে এলে দিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই বজায় থাকে সম্প্রীতি।
বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ জওয়ানরা জানিয়েছেন ,'কোন বাংলাদেশীকে ভারতে প্রবেশ করার অনুমতি না দেওয়া হলেও বাচ্চাদের কথা ভেবে তাদের সীমান্তে ঢুকতে দেওয়া হয়। তবে সীমান্ত লাগোয়া বাড়ি ছাড়া কোথাও যেতে দেওয়া হয় না।'