
মাতৃমা-র সামনে রোগীর পরিবারের আত্মীয়রা
শেষ আপডেট: 19 November 2024 18:53
হাসপাতালে কোনও প্রতীক্ষালয় নেই। অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছেন পরিবারের সদস্য। একেই বাড়ি দূরে, তার ওপর নিজের লোক ভর্তি। সে কারণে রুটিন মেনে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু সবকিছু ছেড়ে তো আর চলে যাওয়া যায় না। কিন্তু কী আর করার! দিনশেষে বিশ্রামের প্রয়োজন তাঁদেরও। কিন্তু থাকবেন কোথায়? রোগীর সঙ্গে তো আর থাকা যায় না। অগত্যা হাসপাতালের সামনের ফুটপাথেই থাকার তোড়জোড় শুরু। এমনই ঘটনা ঘটল কোচবিহারে।
সেখানকার মাতৃমা হাসপাতালের সামনে দেখা গেল ঠিক এমনই ছবি। হাসপাতালের সামনেই ফুটপাথে মশারি-বিছানা খাটিয়ে রাত কাটানোর আয়োজন করছেন বেশ কয়েকজন। সকলেই রোগীর আত্মীয়। বিশ্রাম নেওয়ার মতো কোনও জায়গা খুঁজে না পেয়ে বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন কারও নাতনি, কারও আত্মীয়। কাছের মানুষকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে দিনরাত এক করে ছুটে বেড়ালেও নিজেদের তো একটু বিশ্রাম নিতেই হবে। কিন্তু হাসপাতালের এমন হাল যে সেখানে রোগীর পরিবারের জন্য কোনও প্রতীক্ষালয় নেই। তাই বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।
গত মঙ্গলবার থেকে আলেয়া বিবির নাতনি এই হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর সিজার হয়েছে বলে খবর। মাত্র একদিনই হাসপাতালে নাতনি সঙ্গে থাকতে পেরেছেন আলেয়া। তারপরই স্বাভাবিকভাবেই রোগীর সঙ্গে থাকার অনুমতি মেলেনি তাঁর। হেমন্ত বর্মনেরও একই অবস্থা। তাঁরও আত্মীয় এই হাসপাতালে ভর্তি। তাই কটাদিন এভাবেই কষ্টেশিষ্টে হাসপাতালের বাইরে কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তিনিও।
আলেয়া-হেমন্তদের অভিযোগ, হাসপাতালের উল্টো দিকে আশ্রয় নামে একটি থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে থাকা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। তাই খোলা আকাশের নীচে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি সামনে আসতেই হইচই পড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে এভাবে থাকা প্রায় অসম্ভব। ইতিমধ্যে বিষয়টি হাসপাতালের এমএসভিপি সৌরদীপ রায়কে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে খবর।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব চালু হয় কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল লাগোয়া এলাকায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রসূতি ও সদ্যোজাতদের চিকিৎসার কথা মাথায় রেখেই হাবটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয় ‘মাতৃমা’। কিন্তু ঢালাও করে সবকিছু সাজানো হলেও সেখানে কোনও প্রতীক্ষালয় কেন বানানো হয়নি তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।