দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বাড়ি থেকে মায়ের সঙ্গে রাগারাগি করে বাইরে বেরিয়ে ছিল কিশোরী। সারা রাত নিখোঁজ থাকার পর সকালে এলাকার নর্দমার পাশ থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হল ওই কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগর বিলকুলি এলাকায়। ইতিমধ্যেই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গিয়েছে, কিশোরী বাধা দিতে গেলে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে পালায় অভিযুক্ত। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক রঙ চড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার কিশোরীকে দেখতে ইমামবাড়া হাসপাতালে যাবেন হুগলি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দননগর কর্পোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রেশ্বর থানার এলাকার নবগ্রামে বাড়ি ওই কিশোরীর। বুধবার রাত ৮টা নাগাদ বাড়িতে অশান্তি হওয়ার পর রেগে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে ছিল ১৫ বছরের ওই কিশোরী।
কিন্তু রাতে বাড়ি ফেরেনি সে। ফলে বাড়ির লোকজন চিন্তায় করতে থাকেন। নিজেরাই মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করেন তাঁরা। পরে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি নর্দমার পাশ থেকে কিশোরীকে অচৈতন্য অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়।
তাকে পরে স্থানীয়রাই চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।বর্তমানে কিশোরীর চিকিৎসা চলছে সেখানেই। তার গলায় হাতে চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এবিষয়ে ভদ্রেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে কিশোরীর পরিবার।
এদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব খবর পেয়ে আহত কিশোরীকে দেখতে যায় হাসপাতালে, পরে তারা থানাতেও যায়।বিজেপি সূত্র থেকে খবর শুক্রবার হুগলি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় হাসপাতালে যাবেন।
বিজেপির স্থানীয় নেতা দীপাঞ্জন গুহর অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।বাধা দিলে নির্মম ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে।গলায় ফাঁস দিয়ে দম বন্ধ করা চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীকে গ্রেফতার করুক বলে দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে আসলে কি ঘটে ছিল, সে বিষয়ে কিশোরী বয়ান দিয়েছে। সে জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে মোবাইল রিচার্জ করতে যাচ্ছিল।সেসময় পিছন থেকে তার মুখে রুমাল চাপা দিয়ে টেনে নিয়ে যায় ঘণ্টা নামে স্থানীয় এক যুবক।
কিশোরীর অভিযোগ, তাকে প্রায়ই উত্যক্ত করত ঘণ্টা। ফোন নম্বর চাইত।এদিন তাকে একা পেয়ে জোর জবরদস্তি করতে থাকে। সেই সময়ে বাধা দেয় ওই কিশোরী। চিৎকার-চেঁচামেচিও করে। মুখ বন্ধ করতে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে টেনে ধরে অভিযুক্ত। অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘণ্টার নাম আসলে পার্থ চৌধুরী। বাড়ি চন্দননগরের পুরশ্রীতে। পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ।তবে অভিযুক্ত এখনও পলাতক।