
শেষ আপডেট: 4 October 2023 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিকিমে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে তিস্তা। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গের তিস্তা সন্নিহিত অঞ্চলগুলিতে। জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে তিস্তায়। জল আরও বাড়লে কালিঝোড়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সেবকের করোনেশন সেতু বিপদে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উন্মত্ত তিস্তা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একটা বড় অংশ। ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সিকিমের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গরুবাথান-লাভা হয়ে চলাচল করছে কিছু গাড়ি। বেলা যত বাড়ছে ততই আশঙ্কার প্রহর গুণছে সমতল। ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা জারি হয়েছে তিস্তায়।
উত্তর সিকিমের চুংথাংয়ে দক্ষিণ লোনাক হ্রদের বাঁধ ভাঙায় তিস্তায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক হারে। জল ধরে রাখতে না পেরে তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদী ভয় ধরাচ্ছে সন্নিহিত এলাকায়। যে কোনও ধরণের বিপর্যয় রুখতে কড়া সতর্কতা নেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। জলপাইগুড়ি জেলায় সমতলে নেমেছে তিস্তা। ভোরের মেঘভাঙা বৃষ্টির জলে তিস্তা ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে সিকিমের সঙ্গে দেশের মূল সংযোগরক্ষাকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। পাহাড়ে তিস্তার জলে ভেসে গেছে বেশকিছু বাড়ি। তবে প্রশাসন আগে থেকেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
কালিঝোড়ার বিদ্যুৎ প্রকল্প ও শিলিগুড়ির করোনেশন সেতু নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। কোনওভাবেই যাতে করনেশন সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির ক্ষতি না হয় তারজন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় সকাল দশটা থেকে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে সংরক্ষিত এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা। জলপাইগুড়িতে সমস্ত স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোররাত থেকে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দার্জিলিং-কালিম্পং-জলপাইগুড়ির পাশাপাশি কোচবিহার জেলাতেও মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে তিস্তার বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় মাইক নিয়ে মানুষকে সতর্ক করছে প্রশাসন। নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষজনকে উদ্ধার করে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে আসা হয়। মেখলিগঞ্জেও তিস্তায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফকতের চর, নিজতরফ চরে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে প্রশাসন।