দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক দিন ধরেই লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি উঠছিল ওই লাইনে। কিন্তু পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড অনুমতি দিচ্ছিল না। মহামারীর জন্যই বন্ধ করা হয়ে ছিল দুই রাজ্যের মধ্যে ট্রেন চলাচল। পরে হাওড়া থেকে বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেন দেওয়া হয়েছিল ওই রুটে। তবে এতেও বিশেষ লাভ হচ্ছিল না টাটানগর-ঝাড়গ্রাম রুটের নিত্যযাত্রীদের। তাই বরাবরই লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি উঠছিল। অবশেষে সে দাবি মেনে টাটানগর থেকে ঝড়গ্রাম পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চালানো হল।
আজ, মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ওই রুটে লোকাল ট্রেন চলাচল। দীর্ঘ ১১ মাস পর রুটটিতে লোকাল চালু হওয়ায় খুশি নিত্যযাত্রীরা। তাঁরা বলছেন, 'ঝড়গ্রাম লাইফ-লাইন ফিরে পেল।' এদিন সকালে ঝাড়খণ্ড সীমান্তে টাটানগর থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা হয় টাটা-খড়গপুর লোকাল। তবে প্রথম দিনেই নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে ঝাড়গ্রামে এসে পৌঁছয় সেটি।
রেল সূত্রের খবর, ট্রেন প্রতিদিন টাটানগর থেকে ঝাড়গ্রাম আসবে ১০টা ২৬ মিনিট নাগাদ। বিকেল ৪টে নাগাদ সেটি ফের ঝাড়গ্রাম থেকে টাটানগরের দিকে রওনা দেবে।
গতবছর লকডাউনের জেরে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গোটা দেশের যোগাযোগ। শুধু ওই রুটেই নয়, হাওড়া ও শিয়ালদার সমস্ত রুটেই ট্রেন পরিষেবা বন্ধ ছিল। মহামারী আটকাতে বাধ্য হয়েই ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়ে ছিল রেলকে। প্রথমে বন্ধ হয় আন্তঃরাজ্য ট্রেন পরিষেবা। এরপর ঝুঁকি এড়াতে লোকাল ট্রেন পরিষেবাকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মহামারী কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ফের রেল একে একে ট্রেন রুট খুলতে থাকে। প্রথমে বিশেষ ট্রেন দিয়ে কিছুটা যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। এর পর গত বছরের শেষের দিকে লোকাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয় রেল। প্রথমে শিয়ালদা শাখা ও হাওড়ার কয়েকটি রুটে লোকাল চালানো হয়। ধীরে ধীরে জনতার দাবি মেনে সমস্ত লোকাল ট্রেনের রুট খুলে দেওয়া হয়। তবে তখনও পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড ট্রেন চালানোর অনুমতি দেয়নি। ফলে টাটা-ঝাড়গ্রাম রুটে লোকাল ট্রেন চালানো যায়নি। তাই দীর্ঘ দিন ধরেই নিত্য যাত্রীদের টাটা-হাওড়া স্টিল সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছিল।