
শেষ আপডেট: 11 June 2022 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নূপুর শর্মার (Nupur Sharma) মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া নবী-বিতর্ক (Nabi) নিয়ে এবার মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)। হিংসাত্মক পরিস্থিতির নিন্দায় টুইট করে লিখলেন, 'আজকে যদি নবী মহম্মদ বেঁচে থাকতেন, তাহলে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মান্ধদের উন্মাদনা দেখে অবাক হয়ে যেতেন।'
যথারীতি তসলিমার এই মন্তব্য ঘিরে ফের ঘনিয়ে উঠেছে আলোচনার ঝড়। এমনটা অবশ্য নতুন নয়। ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে কোনও ঘটনা ঘটলেই তসলিমা সে প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মতামত রেখেছেন। এবার নবীর অবমাননা প্রসঙ্গেও তেমনটাই হল।
ভারতীয় জনতা পার্টির বরখাস্ত হওয়া মুখপাত্র নুপুর শর্মার নবী মহম্মদ সম্পর্কে করা মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দাবি উঠেছে নূপুর শর্মাকে গ্রেফতার করার এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডেরও। ভারতীয় পণ্য বয়কটেরও আহ্বানও উঠেছে একাধিক দেশে।
পাপ করল বিজেপি, ভুগবে জনগণ? বরদাস্ত নয়: মমতা
প্রতিবেশী বাংলাদেশেও হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেছেন নূপুরের মন্তব্যের প্রতিবাদে। এই নিয়ে তসলিমা আগেই লিখেছিলেন, 'বাংলাদেশের ধর্মোন্মাদ লোকেরা দেশ জুড়ে তাণ্ডব করছে, কারণ ভারতের একজন রাজনীতিক তাদের ধর্মগুরু সম্পর্কে কিছু বলেছে। কী বলেছে, আমার ধারণা, তারা জানে না। আমি যখন তাদের ধর্ম এবং ধর্মগুরু নিয়ে বহুকাল আগে কিছু সত্য কথা বলেছিলাম, তখন তারাও এমন তাণ্ডব করেছিল। বেশিরভাগ উন্মাদই জানত না আমি ঠিক কী বলেছিলাম। তাণ্ডব করার আগে তাদের জানার দরকার হয় না কে কী বলেছে, যা বলেছে তার সঙ্গে সত্যের কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তাদের এও জানার দরকার হয় না সত্যটাই বা কী। ধর্মোন্মাদদের কানে কেউ যদি এই খবর পৌঁছে দিতে পারে, ধর্মগুরু নিয়ে কেউ কোনও প্রশ্ন করেছে, ওমনি তারা বদ্ধ উন্মাদের মতো রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। কোনও প্রশ্ন চলবে না, সমালোচনা চলবে না, নিন্দে চলবে না, এমনকী কোনও সত্য কথাও বলা চলবে না। গুরুকে নিয়ে ঐতিহাসিক সত্যও উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ। তাঁর সম্পর্কে ধর্মীয় পুস্তক কী লিখেছে, তা-ও বলা বারণ। এতগুলো মুসলিম দেশও কী করে বাকস্বাধীনতার বিপক্ষে এক পায়ে দাঁড়িয়ে গেল জানি না।'
শুধু তাই নয়, নবী-বিতর্কে তসলিমা টুইট করে আরও লেখেন, 'কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। কোনও মানুষ, কোনও সন্ত, কোনও মসীহা, ধর্মগুরু, ঈশ্বর-- কেউ নন। বিশ্বকে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য সমালোচনা ও কাটাছেঁড়া জরুরি।'