
শেষ আপডেট: 31 July 2018 11:04
শোভন চক্রবর্তী
একুশের মঞ্চ থেকেই তৃণমূলনেত্রী ডাক দিয়েছিলেন বাংলায় ৪২-এ ৪২ করতে হবে। আর ওই একুশের মঞ্চেই প্রথমবার তৃণমূলের পতাকার তলায় দেখা গিয়েছিল একদা সিপিএম-এর দুই নেতা মইনুল হাসান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ বার এই দু’জনকে নিয়ে নতুন জল্পনা আলিমুদ্দিনে। সিপিএম নেতারা মনে করছেন কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার নীতিতে তাঁদের জেতা দুটি লোকসভা আসনে তৃণমূল প্রার্থী করতে পারে মইনুল এবং ঋতব্রতকে। প্রসঙ্গত, রায়গঞ্জ থেকে জেতা মহম্মদ সেলিম এবং মুর্শিদাবাদ থেকে জেতা বদরুদ্দুজা খানকে এলাকায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে রাজ্য সিপিএম অনেকদিন আগেই নির্দেশ দিয়ছিল। সেলিম পলিটব্যুরোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও রায়গঞ্জেই বেশি সময় কাটান। জেলাতেই পড়ে থাকেন বদরুদ্দুজা খানও। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত নির্বাচনগুলিতে সিপিএমের যা ভোট পাওয়ার ছবি, তাতে হয়তো বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্ররা অন্যান্যগুলির তুলনায় এই দুটি আসনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন ধরে রাখার জন্য। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জায়গাতেই আলিমুদ্দিনের প্রাক্তনীদের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ৪২-এ ৪২ করতে। সিপিএম নেতাদের আশঙ্কা, সেলিমের বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে পারেন ঋতব্রত এবং মুর্শিদাবাদ আসনে মইনুল। কেন? ঋতব্রত সিপিএমে থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে দল যে তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তার চেয়ারম্যান ছিলেন সেলিম। বর্তমানে রাজ্যসভার এই নির্দল সাংসদ একাধিকবার অভিযোগ করেছেন সেলিমের বিরুদ্ধে। এমনকী তদন্ত কমিশনকে হাতিয়ার করে সেলিম তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুধু সেলিম নন, তাঁর বড় ছেলে রাসেল আজিজের বিরুদ্ধে ঋতব্রত অভিযোগ তুলেছিলেন। এরপর ছাত্র-ফ্রন্ট থেকে উঠে আসা এই নেতাকে বহিষ্কার করে সিপিএম। কিছু দিন মুকুল রায়কে ধরে বিজেপি’র গা ঘেঁষারও চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে কিনারা না পেয়ে রাজ্যের শাসক দলের কাছাকাছি আসার চেষ্টা শুরু করেন। তৃণমূলের নানান কর্মসূচির প্রচার শুরু করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলও মেলে তার। জনজাতিদের জন্য কমিটি গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার চেয়ারম্যানও করে দেন ঋতব্রতকে। এরপর সরাসরি যোগ না দিলেও একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও চলে যান তিনি। যুব ফ্রন্ট থেকে উঠে আসা প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসানও দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। এরপর তাঁকেও বহিষ্কার করে সিপিএম। প্রসঙ্গত, গত রাজ্য সম্মেলনেই সিপিএম রাজ্য কমিটি থেকে ছেঁটে ফেলেছিল মইনুলকে। সিপিএম সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ উঠেছিল। যদিও মইনুল সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। মইনুল জানান, তাঁর পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করেছেন তিনি। রাজ্যসভা ও লোকসভার এই প্রাক্তন সাংসদ মুর্শিদাবাদ জেলায় দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। হাতের তালুর মতো চেনেন গোটা জেলা। বিভিন্ন এরিয়া কমিটিতেও লোক রয়েছে তাঁর। এই পরিকল্পনার ব্যাপারে তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "এখন কিছু বলব না। যা হবে দেখতেই তো পাবেন।" আগামী ১৩ অগস্ট সিপিএমের রাজ্য কমিটির জরুরি বৈঠক। সেখানেও আলোচনা হতে পারে এ নিয়ে। ঋতব্রত যে সিপিএম নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সে খবর আগেই দ্য ওয়ালে প্রকাশিত হয়েছিল। সূত্রের খবর, ১৩ তারিখের জরুরি সভায় তেমন কিছু নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে সিপিএম। এর মধ্যে সবচেয়ে উপরের দিকে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনার নাম। ইতিমধ্যেই সেখানকার কয়েক ডজন এসএফআই-ডিওয়াইএফআই নেতা ঋতব্রতর সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরে গিয়ে ভিড়েছেন। এ বার আর কোন বড় নেতাকে সিপিএম চিহ্নিত করেছে এখন সেটাই দেখার। সিপিএমের এক যুব নেতার কথায় ঋতব্রতর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে জেলা স্তরের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করতে পারে সিপিএম।