
শেষ আপডেট: 14 October 2019 09:02
পৃথিবীর অতি প্রাচীন জীবগুলির একটি হল এই টার্ডিগ্রেড। অদ্ভুতদর্শন চেহারা। দেখলেই গা শিউরে উঠবে। লম্বা দেহে আছে আটটি পা, তাতে আবার নখওয়ালা থাবা। এদের দেখলে মনে হয় পতঙ্গের লার্ভা জাতীয় কোনও প্রাণী। আসলে এদের সঙ্গে 'ওয়ার্ম' বা কেঁচোর মিল বেশি। সাধারণত এরা জলে ভেসে থাকে। কখনও জলজ উদ্ভিদকে আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকে।
[caption id="attachment_150286" align="aligncenter" width="640"]
টার্ডিগ্রেডের মুখ[/caption]
PLOS Biology নামে একটি বিখ্যাত সায়েন্স ম্যাগাজিনে টার্ডিগ্রেডের ডিএনএ সংক্রান্ত একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে এক মিলিমিটারেরও কম লম্বা প্রাণীটি অসহ্য গরম ও অসহ্য ঠান্ডা দিব্যি সহ্য করতে পারে। সইতে পারে তেজস্ক্রিয়তা। টার্ডিগ্রেড টিকে থাকতে পারে মহাশূন্যেও।
টার্ডিগ্রেড খাবার না খেয়ে টিকে থাকতে পারে ৩০ বছর। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার না পেলে টার্ডিগ্রেডের শারীরিক প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেহ চালাতে শক্তির প্রয়োজন পড়ে না। যে শক্তির যোগান দেয় খাদ্য। ফলে বিনা খাদ্যে এরা বহুবছর বাঁচতে পারে।
জল ছাড়াও টার্ডিগ্রেড বাঁচতে পারে বহু বছর। খরার ফলে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া জলজ উদ্ভিদের দেহে দিব্যি এরা বেঁচে থাকে। গবেষকরা বলছেন এই বিস্ময়কর অভিযোজনের মূলে আছে টার্ডিগ্রেডের দেহে থাকা কিছু প্রোটিন, যেগুলি এদের দেহে জলের অভাব পূরণ করতে পারে। তবে পরিবেশে জলের সন্ধান পেলে আবার তারা শরীরে প্রয়োজনীয় জল ভরে নেয়। তাই গবেষকদের মতে পৃথিবীতে যতরকম দুর্যোগ ঘটে, সবগুলি থেকে বেঁচে ফেরার বিশ্বরেকর্ড সম্ভবত এই প্রাণীটিরই আছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন এই টার্ডিগ্রেডকে নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া উচিত। পৃথিবীতে টিকে থাকার এই অদ্ভুত ক্ষমতা মানুষের কাজেও লাগতে পারে। রেফ্রিজারেশন ছাড়াই কীভাবে শুক্রাণু, রক্ত, টিকা,স্টেমসেল, কর্নিয়া ও অন্যান্য জৈববস্তু সংরক্ষণ করে রাখা যায় তার পথনির্দেশক হতে পারে এই টার্ডিগ্রেডই। পড়ুন দ্য ওয়াল পুজো ম্যাগাজিনের বিশেষ লেখা...