দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: শুক্রবার থেকে ফের বন্ধ হয়ে গেল তারকেশ্বরের মন্দির। বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদিন দু’দফায় মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু লাগোয়া গ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ায় আবার মন্দির বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সন্ধ্যায় তারকেশ্বর থানার আধিকারিক, পুরসভার প্রশাসক সহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ফের মন্দির বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারকেশ্বর মন্দিরের মহন্ত। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর সেই সিদ্ধান্ত সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জানান, তারকেশ্বর মন্দির থেকে ভঞ্জীপুরের দূরত্ব মাত্র আধ কিলোমিটার। ভঞ্জীপুর স্কুলের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাখা হয়েছিল তাঁরা সবাই এই এলাকারই বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে ১০ জনের করোনা ধরা পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘‘ভঞ্জীপুর সহ মন্দির সংলগ্ন বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে আসেন মন্দিরের পুরোহিত, পথ প্রদর্শক, ও কর্মচারীরা আসেন। প্রতিদিন রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে হাজারে হাজারে মানুষ পুজো দিতে আসেন মন্দিরে। তাঁদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ও করোনা সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেই কারণেই অনির্দিষ্টকালের জন্য মন্দির বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।’’
এর ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল এ বছরের শ্রাবণী মেলাও। প্রতিবছর রাজ্য তো বটেই ভিন রাজ্য থেকেও বহু মানুষ আসেন তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলায়। শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে উপচে পড়ে ভিড়। বৈদ্যহাটির নিমাইতীর্থ ঘাটে জল ভরে বাঁক নিয়ে মন্দিরের দিকে হাঁটতে শুরু করেন ভক্তরা। তাই গমগম করে এই নিমাইতীর্থ ঘাটও। বাঁক, ফুল, বেলপাতা ও পুজোর আনুসঙ্গিক সরঞ্জামের দোকান, পুণ্যার্থীদের জন্য খাবারের দোকান সব মিলিয়ে গমগম করে ঘাট।
বহু ব্যবসায়ীই সারাবছর তাকিয়ে থাকেন এই সময়টার দিকে। এই সময়ের বিক্রিবাটার উপর নির্ভর করে চলে অনেকের সংসার। পুণ্যার্থীদের থেকে নেওয়া কর বৈদ্যবাটি পুরসভার আয়ের একটা বড় উৎস। শ্রাবণী মেলা বন্ধের আশঙ্কার সঙ্গে তাই জড়িয়ে রয়েছে বড় আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নও।
মেলা না হওয়ার আশঙ্কা গ্রাস করেছে তারকেশ্বরের মানুষকেও। শ্রাবণ মাস পড়লেই ঢল নামে ভক্তদের। শুধু মেলায় আসা দোকানীরাই নয়, তারকেশ্বরের অন্য ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও এর দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত হয়। এতদিন মন্দির বন্ধ থাকায় এমনিতেই ক্ষতির মুখে এই শৈবতীর্থের মানুষ। তাই নতুন করে মন্দির বন্ধের সিদ্ধান্তে অশনিসংকেত দেখছেন তাঁরা।