
শেষ আপডেট: 1 September 2022 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার রেড রোড ছিল আজ উৎসবের মেজাজে। দুর্গাপুজোকে (Durga Pujo 2022) আবহমান ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো (UNESCO)। এদিন সেই ইউনেস্কোকেই ধন্যবাদ জানাতেই সমস্ত ক্লাবগুলোকে নিয়ে মিছিলের ডাক দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই স্বীকৃতির পিছনে আসল কারিগর কে? সেই নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জোর তর্জা চলছে। তবে আজকের মঞ্চে যেন সেই বিতর্ক মিলে গেল। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশে দেখা গেল তপতী গুহঠাকুরতাকে (Tapati Guho Thakurata)।
ইউনেস্কোর থেকে প্রাপ্য এই তকমার কৃতিত্ব কার? সেই নিয়ে বিগত কয়েকদিনে ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের ঠেকে চলছে জোর আলোচনা। অনেকেই মত প্রকাশ করে বলেছেন, এই স্বীকৃতির নেপথ্য কারিগর হলেন অধ্যাপিকা তপতী গুহঠাকুরতা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কৃতিত্বে প্রচারের আলো নিজের দিকে টেনে নিচ্ছেন!
কিন্তু লক্ষ্মীবারে সেই বিতর্কের অবসান ঘটালেন স্বয়ং মমতাই। এদিনের অনুষ্ঠানে শুধু তপতীকে তিনি ডাকেননি, পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁকে সম্মানিতও করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
২০১৫ সালে অধ্যাপিকা তপতী গুহঠাকুরতার লেখা একটি বই, 'ইন দ্য নেম অফ দ্য গডডেস: দ্য দুর্গাপুজোস অফ কন্টেম্পরারি কলকাতা' প্রকাশিত হয় এই স্বীকৃতির অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে বলা যেতে পারে এই বইটিকে। গবেষণা ভিত্তিক এই বই জুড়ে ছিল কলকাতা ও তার দুর্গাপুজো। ২০১৮ সাল থেকে তপতীদেবী শুরু করেন দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পাইয়ে দেওয়ার লড়াই।
দুর্গাপুজো নিয়ে প্রথমে ডসিয়ার তৈরি করে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে পাঠানো। তার পর সেটিকে ইউনেস্কোর মনোনয়নের জন্য প্রেরণ করা সবকিছুতেই অগ্রণী ভূমিকা নেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। ২০২১ সালে শেষপর্যন্ত সেই লড়াই সার্থক হয়, এবং কলকাতার দুর্গাপুজো পায় 'ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ' সম্মান।
মহামেডান দুর্গা দিল ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের, কলকাতা আছে কলকাতাতেই
বৃহস্পতিবার রেড রোডের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তপতীদেবীর কৃতিত্বের কথা ভুলে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের মতোই তাঁকেও সম্মান প্রদান করেন তিনি। এমনকি তপতীদেবীকে কিছু বলার জন্যও অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধেই এদিনের মঞ্চ থেকে তপতী গুহ ঠাকুরতা বললেন, "ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের হয়ে আমি এই কাজ করেছিলাম। বাংলার জন্য এই কাজ করেছিলাম। দুর্গাপুজো সমস্ত ধর্মের মানুষ, বিভিন্ন শিল্পকে নিয়ে হয়। তাই এই সম্মান খুব জরুরি ছিল।"
এদিনের মঞ্চও ছিল নানা রঙে ভরা। যেমন ছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্প, সংস্কৃতি, তেমনই মিলে গিয়েছিল খেলার মাঠ। ময়দানের তিন প্রধান মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডানের সমর্থকেরা হাঁটলেন এই মিছিলে। এছাড়াও মঞ্চ আলো করে ছিলেন বাংলার মহারাজ তথা বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও।
উৎসবের মতোই খেলাধুলোও ঘুচিয়ে দেয় ভৌগলিক দুরত্ব: রেড রোডে সৌরভ