
শেষ আপডেট: 7 September 2023 03:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের ১৩ মার্চ। পুরভোটের ফল প্রকাশের কয়েকদিন পরেই ঝালদায় আততায়ীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ঝালদা পুরসভার (Jhalda municipality) কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর। পুরবোর্ডের দখল নিতে তৃণমূল তাঁর স্বামীকে খুন করেছিলেন বলে সরব হয়েছিলেন তপনের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু (Tapan Kandu's wife)।
সে সময় পূর্ণিমার পাশে দাঁড়িয়ে শাসকের বিরুদ্ধে গলার স্বর চওড়া করতে দেখা গিয়েছিল নিহত কাউন্সিলর তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দুকে। কাকার মৃত্যুতে উপ নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন মিঠুন।
বুধবার সেই মিঠুন এবং ঝালদা পুরসভার (Jhalda municipality) পুরপ্রধান শীলা চট্টোপাধ্যায় সহ আরও তিন কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ফের ঝালদা পুরসভা হাতছাড়া হল কংগ্রেসের। তপনের স্ত্রী পূর্ণিমাও ঝালদা পুরসভার কাউন্সিলর। বুধবার বিকেল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ঝালদা পুরসভার উপ পুরপ্রধান। তপনের ভাইপোর এমন দলবদলের ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
যদিও তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দুর বক্তব্য, “কাকা কে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু ঝালদার উন্নয়ন তো দরকার। কাকার সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তৃণমূলে যোগ দিয়েছি।”
গত পুরনির্বাচনে ঝালদা পুরসভার ১২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস এবং তৃণমূল পাঁচটি করে আসনে জয়ী হয়েছিল। দু’টি আসনে জয়ী হয়েছিলেন নির্দল প্রার্থীরা। বোর্ড গঠনের আগেই কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু খুন হয়েছিলেন। পুরবোর্ড গঠনের দিন তৃণমূলের পাঁচ কাউন্সিলরের সঙ্গে ছিলেন নির্দল হিসাবে জেতা দুই কাউন্সিলর। তাঁরাও সেদিন তৃণমূলের প্রার্থী সুরেশ আগরওয়ালকে সমর্থন করেছিলেন।
তপন কান্দুর শূন্য আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হন তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দু। এরপরই নির্দল দুই কাউন্সিলরকে সঙ্গী করে তৃণমূলের বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন কংগ্রেসের কাউন্সিলররা। হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে নভেম্বরে পুরসভার দখল নেয় কংগ্রেস। তারপর থেকেই উন্নয়নের অর্থ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিরুদ্ধে। ওই বিষয়ে সম্প্রতি রাজ্যের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস পরিচালিত ঝালদা পুরসভা। এবার দলের কাউন্সিলররাই দল বদল করায় ঝালদা পুরসভা হাতছাড়া হল কংগ্রেসের। মিঠুনের এমন ভূমিকায় স্বভাবতই ক্ষুব্ধল নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসের হাতছাড়া ঝালদা পুরসভা, তৃণমূলে যোগ দিলেন নিহত তপনের ভাইপো-সহ ৫ কাউন্সিলর