দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পালশিটের টোলপ্লাজায় বেশ কয়েকজন লরি মালিক টোল আদায়ে বাধার সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা নিজেরা টোল দিচ্ছে না। স্থানীয় বলে টোল না দিয়েই লরি নিয়ে যাতায়াত করছে। এ নিয়ে বলতে গেলে টোলের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
এমনকি রাস্তার মাঝে গাড়ি দাঁড় করিয়ে অন্য গাড়ির যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি করছে তারা। গাড়ি দাঁড় করানোর ফলে ভিআইপি লেন দিয়ে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। আটকে পড়ছে অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিসের গাড়িও। কয়েকজন আবার টোল প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে অবৈধভাবে গাড়ি থেকে টাকা আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর পিছনে স্থানীয় কয়েকজনের মদত ও ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে টোলপ্লাজার দায়িত্বে থাকা সংস্থার অভিযোগ। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে। এনিয়ে টোলপ্লাজার দায়িত্বে থাকা সংস্থার পক্ষ থেকে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে। অভিযোগ পেয়ে কেস রুজু করেছে থানা। যদিও কেউ এখনও গ্রেফতার হয়নি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, লরিচালকদের সঙ্গে মেমারি থানা ও পালশিট ফাঁড়ির কয়েকজন কর্মী-আধিকারকের সখ্য রয়েছে। সে কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। টোলপ্লাজার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পালশিট ফাঁড়ি। তারপরও কীভাবে রাজস্ব আদায়ে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও মেমারি থানার এক অফিসার বলেন, ‘‘কেস রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের সঙ্গে পুলিশ কর্মীদের সখ্যের অভিযোগও ঠিক নয়।’’
টোলপ্লাজার তরফে জানানো হয়েছে, কয়েকজন লরি মালিক নিয়মিত টোলপ্লাজার সামনে গণ্ডগোল বাধাচ্ছে। তারা টোল দিচ্ছে না। টোলের টাকা চাইতে গেলে লরি লেনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। কয়েকজন অবৈধভাবে গাড়ি থেকে টোল আদায় করছে। সুষ্ঠভাবে টোল আদায়ে বাধা দিচ্ছে। কিছুদিন আগে ব্যারিয়ার ভেঙে লরি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করা হয়। ধরতে গেলে টোলের এক কর্মীকে পিষে মারার চেষ্টা করা হয়। এর পিছনে স্থানীয় কয়েকজনের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে হাওড়ার একটি স্বর্ণঋণ সংস্থায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের ধরায় গাফিলতির কারণে পালশিট ফাঁড়ির এক অফিসারকে ক্লোজ করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। তারপরও কীভাবে এ ধরণের ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে।