দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোট ইসতেহারে তৃণমূলের অন্যতম ঘোষণা ছিল, এবার সরকারে এলে স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে। ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন রাজ্যের এক এক জন ছাত্র।
দিদি ভোটে জিতে ফের সরকারে এসেছেন। ইসতেহারের কথা রেখে সেই স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ডের সূচনাও করেছেন সপ্তাহ দেড়েক আগে। কিন্তু তা নিয়ে আবেগের বিহ্বলতা দেখল বৃহস্পতিবারের বিধানসভা অধিবেশন।
এদিন নদিয়ার পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করার পর কলেজে ভর্তির সময়ে ঘরে কানাকড়িও ছিল না। তখন মা হাতের বালা বন্ধক দিয়েছিল। তা দিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। আজ আর কোনও মায়ের বালা বন্ধক দিতে হবে না। যাদের মায়ের বালা নেই, তারাও ভর্তি হবে। স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড আছে।”
মানিকবাবু যখন একথা বলছেন তখন দেখা যায় ট্রেজারি বেঞ্চে বসে চোখ মুছছেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। পরে স্বপনবাবুকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাঁরও এমএ-তে ভর্তির সময়ে সংসারে অনটন ছিল তীব্র। মায়ের গয়না বন্ধক দিয়েই তাঁকে ভর্তি হতে হয়েছিল।
স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড যেন অনেককেই স্মৃতির সরণিতে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ফ্ল্যাশ ব্যাকে ভেসে উঠছে নিজেদের জীবনের কথা, অর্থ সংকট কী ভাবে উচ্চশিক্ষায় অন্তরায় হয়ে উঠেছিল সেইসব ঘটনা।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, যে ছাত্রছাত্রীরা এই সুবিধা গ্রহণ করবেন তাঁদেরও অনেকের পরিবারে বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে এই সংকটের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে থাকার ঘটনা থাকতে পারে। তাঁরাও হয়তো সেকাল-একাল তুলনা টানবেন। যা হয়তো মমতা সরকারের ভিতকেই আরও দৃঢ় করবে।