দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনাবাহিনীর জওয়ান ছিলেন নন্দীগ্রামের চিল্লাগ্রামের যুবক বছর ছাব্বিশের বুদ্ধদেব পণ্ডা। পোস্টিং ছিল লখনৌতে। গত অগস্টের শেষে সেখানেই কাপড় মেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান বুদ্ধদেব। তাঁর স্ত্রী রাখী তখন অন্তঃসত্ত্বা। মাত্র বছরখানেক আগেই বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। সেই রাখী কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন পঞ্চমীর দিন।
পঞ্চমীর দিন বুদ্ধদেবের মেয়ে হওয়ার পর তাঁর পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক ও মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, বুদ্ধদেব দেশের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও শিশুকন্যার ভাত, কাপড়, পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠায় কোনও সমস্যা হবে না। সমস্ত দায়িত্ব নিলেন শুভেন্দুবাবু নিজেই।
মাসদেড়েক আগে বুদ্ধদেবের মৃতদেহ যে দিন নন্দীগ্রামে পৌঁছয়, সে দিনই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সব রকম ভাবে তাঁদের পাশে থাকার ব্যাপারে সে দিনই কথা দিয়ে এসেছিলেন তিনি।
স্থানীয় তৃণমূলের এক নেতার কথায়, রাজনৈতিক ভাবে শুধু নয়, বলা যেতে পারে শুভেন্দুবাবু গোটা নন্দীগ্রামেরই অভিভাবক। নন্দীগ্রামের আন্দোলনের ঘটনায় শহিদ পরিবারকে দেখভাল করা থেকে শুরু করে দুর্গাপুজো, ঈদে উপুরহস্ত হয়ে এলাকার গরিব, পিছিয়ে পড়া মানুষকে সাহায্য করেন।
সেপ্টেম্বরেই নন্দীগ্রামের চিল্লাগ্রামে বুদ্ধদেবের বাড়িতে গিয়ে মৃত জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন শুভেন্দু। তাঁর ছবিতেও মাল্যদান করেন। বুদ্ধদেবের বাবাকে ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য তুলে দেন তিনি। মৃত জওয়ানের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা জেনে তাঁর যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব তিনি নেবেন বলে তখনই জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, তিনি সবসময় ওই পরিবারের পাশে থাকবেন। ওই পরিবারের ছোট ছেলেকে চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেন মন্ত্রী।