
শেষ আপডেট: 29 March 2023 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিজেপিকে নিশানা করে রেড রোড এবং শহিদ মিনার থেকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পাল্টা শ্যামবাজারের (Shyambazar) কর্মসূচি থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা লুঠ নিয়ে মমতা তথা তৃণমূলকে বিঁধতে চাইলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এদিন শুভেন্দু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় টাকা দিলে সেটাকে করে দিচ্ছে বাংলা গ্রাম সড়ক যোজনা। স্বচ্ছ ভারত মিশনে শৌচালয় নির্মাণের টাকা এল, তা হয়ে গেল মিশন নির্মল বাংলা। প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনায় রেশনে খাদ্য সামগ্রীকে বলে দিল খাদ্যসাথী। এই স্টিকার পিসি একটাও সত্যি কথা বলেন না।’
অবশ্য শুভেন্দু যখন স্টিকারের অভিযোগ করছেন, তখন পাল্টা প্রশ্ন মোদী সরকারের উদ্দেশেও উঠছে। আবাস যোজনায় ৪০ শতাংশ অর্থ রাজ্যকে দিতে হয়। ৬০ শতাংশ অর্থ দেয় কেন্দ্র। শর্ত যদি তাই হয়, তা হলে শুধু প্রধানমন্ত্রীর নামে সেই প্রকল্পের নামকরণ কেন হবে তা নিয়ে বাংলায় তৃণমূল থেকে কেরলে বামেরা সরব। বস্তুত এই কারণেই তেলঙ্গনা কেন্দ্রের থেকে আবাস যোজনায় টাকাই নেয় না।
এদিন ফের একবার ভুয়ো জব কার্ড নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করেছেন শুভেন্দু। বিজেপির অবস্থান মঞ্চে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘যেই মোদীজি জব কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করানোর কথা বললেন, বিধি ঠিক করলেন, ওমনি দেখা গেল বাংলায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ জব কার্ড রাতারাতি এক কোটি কমে গেল।’
শুভেন্দুর বক্তব্য, এই এক কোটি ভুয়ো জব কার্ডের টাকা ১০ বছর ধরে তৃণমূল লুঠ করেছে। সেই পাইপয়সার হিসাব তৃণমূলকেই দিতে হবে।
শুভেন্দুর এই অভিযোগ ফাঁপা বলে মন্তব্য করেছে তৃণমূল। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি শাসিত রাজ্যেও আধার লিঙ্ক করতে গিয়ে জব কার্ড হোল্ডারের সংখ্যা কয়েক কোটি কমেছে। তা হলে শুভেন্দু কি বলছেন যে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশেও লুঠ হয়েছে। তা হলে সেখানে বরাদ্দ কেন বন্ধ করল না কেন্দ্র?
একশ দিনের কাজের বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়াকে বাংলার মানুষের পেটে আঘাত বলে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন মমতা-অভিষেক। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে বাংলার মানুষকে কেন্দ্র ভাতে মারতে চাইছে।
বিরোধী দলনেতা এদিন আক্রমণের সুর চড়িয়ে বলেন, জেলায় জেলায় ডিএম, বিডিওদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের পঞ্চুরা (পঞ্চায়েত সদস্য) একশ দিনের কাজের টাকা লুঠ করেছে। সেইসব জেলাশাসক, বিডিওদের গ্রেফতার করতে হবে।
১০০ দিনের কাজ গ্রামীণ অর্থনীতির একটা বড় ভিত্তি। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্প আটকে যাওয়া ও বকেয়া মজুরির বিষয়টি অনেক সময়ে সাধারণ গ্রামীণ মানুষের জানাবোঝার মধ্যে নাও থাকতে পারে। তাঁরা ভাবতে পারেন, রাজ্য সরকারই বুঝি এই টাকা দিচ্ছে না। অনেকের মতে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে সে কারণেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হয়ে রাস্তায় নামল তৃণমূল। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য, চুরি করা টাকার হিসাব না দিলে নতুন বরাদ্দ আসবে কেন? চুরির হিসাব তৃণমূলকেই দিতে হবে। তবে এই ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা যে পঞ্চায়েত ভোটের মূল ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।