দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের আগে তখন দলবদল চলছে। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ঘনিষ্ঠ বলেছিলেন, দাদা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একই দিনে বিজেপিতে (BJP) যাবেন না। শুভেন্দুর থেকে দাদা কম কীসে!
শুধু সেই ঘনিষ্ঠ কেন, বাংলার রাজনীতিতে অনেকেই মনে করতেন শুভেন্দু প্রশ্নে রাজীবের ইগো রয়েছে। উনি মনে করেন, শুভেন্দুর যেমন নিজের জায়গা রয়েছে তেমনই তাঁর আলাদা পরিচিতি ও ফলোয়িং রয়েছে। তবে ভোট শেষে দেখা যায়, শুভেন্দু কঠিন লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হলেও রাজীব ৪২ হাজারে ফেল করেছেন। শুধু তা নয়, ভোট মিটতেই সুর নামিয়ে পুরনো দলে ফেরার দৌত্যে নেমে পড়েছেন।
কোচিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! মর্মান্তিক মৃত্যু মিস কেরল ও রানার্স আপের
এহেন রাজীব রবিবার তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার পর সোমবার কার্যত বিষয়টিকে পাত্তাই দিতে চাইলেন না শুভেন্দু অধিকারী। বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেও এতটা তাচ্ছিল্য দেখাননি শুভেন্দু। কিন্তু রাজীব প্রসঙ্গে এদিন বলেন, ও গেল তো কী হল! কিছু যায় আসে কি!
পরে ঘরোয়া আলোচনায় শুভেন্দু সাংবাদিকদের বলেন, যে নেতা দশ বছর বিধায়ক ও মন্ত্রী থাকার পর তাঁর নিজের নির্বাচন কেন্দ্রে গো হারা হেরে যান, তার তো জনভিত্তি বলে কোনও বস্তুই নেই। সূর্যের আলোয় আলোকিত। নিজের আলো কোথায়! এমন লোক থাকা যা না থাকা তা!
ব্যাপারটা অবশ্য এত তিক্ত ছিল না। বরং নিজে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলতেন, “এদিকে চলে আসুন রাজীব। আপনি জেন্টলম্যান। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির চাকরগিরি করা আপনাকে মানায় না!” তারপর সেই রাজীব চার্টার্ড বিমানে দিল্লি যান। অমিত শাহর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নেন। এর পর একাধিক সভায় শুভেন্দু-রাজীব জুটি বিজেপির মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল, সরকার নিয়ে কত কীই না বলেছেন।
সেই পর্ব এখন অতীত। সোমবার থেকে বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, ২ মে-র পর থেকে যখন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা খুন হচ্ছেন, মার খাচ্ছেন তখন রাজীবকে দেখা যায়নি। গতকাল সকাল পর্যন্ত কোনও কথা শোনা যায়নি তাঁর মুখে। তাই ও কোথায় গেল তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। মিহির গোস্বামী , মনোজ টিগগাদের পাশে নিয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও বলেন, আমরা যাঁরা আছি তাঁরাই করব।
শুভেন্দুর মতো অবশ্য দিলীপ ঘোষ বিষয়টিকে দেখছেন না। সরাসরি রাজীবকে দালাল বলেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। সেইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এখনও কিছু দালাল পার্টিতে রয়ে গিয়েছেন। এই দ্বিতীয় দালাল কারা, কাদের দিলীপ নিশানা করতে চেয়েছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। যা নিয়ে বিজেপির অন্দরেও চর্চা চলছে বলে খবর।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'