দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানার অন্যতম অবদান হল সিভিক ভলান্টিয়ার তথা সিভিক পুলিশ। তাদের চাকরি অস্থায়ী, মাইনে ৮ হাজার টাকা।
শাসক দল যেমন দাবি করে এর ফলে রাজ্যের বেশ কয়েক হাজার বেকার ছেলের কর্মসংস্থান হয়েছে। তেমনই আবার বিক্ষিপ্ত ভাবে এক শ্রেণির সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগও উঠেছে। শাসক দল এদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ বিরোধীদের।
সিভিকদের নিয়ে এই সাত-সতেরোর মাঝেই রবিবার দাঁতনের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, স্কুলে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তুলছে তৃণমূল। আর সিভিক পুলিশরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে, বিজেপি এলে চাকরি খাবে। কেন খাবে? বিজেপি চাকরি খাওয়ার দল নয়। এর পরই শুভেন্দু বলেন, ‘সিভিক পুলিশদের মাইনে এতো কম, কেউ মেয়ে দিতেই চায় না। বিজেপি এলে এঁদের মাইনে বাড়িয়ে দেবে’।
অনেকের মতে, সিভিকরা যেভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছেন, তা থেকে তাঁদের বিরত রাখতেই হয়তো শুভেন্দু এ কথা বলেছেন।
বস্তুত বাংলায় কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব নিয়ে গোড়া থেকে সরব শুভেন্দু। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন শুভেন্দু। তিনি হয়তো জানেন যে, রাজ্য সরকারি চাকরিতে হাজার হাজার স্থায়ী পদ বিলোপ করে দিয়েছে নবান্ন। পরিবর্তে অস্থায়ী ঠিকা কর্মচারী নিয়োগ করেছে। যে চাকরির বর্তমান দুর্বল, ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।
এদিনের সভাতেও শুভেন্দুর বক্তৃতায় তেমনটাই শোনা যায়। তিনি বলেন, চোদ্দ সাল থেকে স্কুল সার্ভিসে নিয়োগ বন্ধ। আর তৃণমূল সবাইকে ডেকে ডেকে বলছে, বিজেপিতে যাবি না, প্রাইমারিতে পাঁচটা করে চাকরি দেব। সব খবর আমার কাছে আছে। সিপিএম অন্তত প্রতি বছর এসএসসিতে দশ বারো হাজার করে চাকরি দিয়েছে, তৃণমূলের আমলে সব বন্ধ।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান সরকার। গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তার পর এ বার, ভোটের মুখে প্রাথমিকে ১৬ হাজারের কিছু বেশি শূণ্যপদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে নতুন নিয়োগ কতটা নির্বিঘ্নে হয়, এখন সেটাও দেখার।