বরাবর অধরা আসন ঘরে আনলেন শুভেন্দু, পশ্চিমে সব খোয়ালেন অভিষেক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ায় তৃণমূলের কর্মিসভার কথা মনে আছে। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেখিয়ে দিদি বলেছিলেন, ওঁরাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতা।
দিদির ওই সভার পরে প্রথম বড় পরীক্ষায় দ
শেষ আপডেট: 23 May 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ায় তৃণমূলের কর্মিসভার কথা মনে আছে। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেখিয়ে দিদি বলেছিলেন, ওঁরাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতা।
দিদির ওই সভার পরে প্রথম বড় পরীক্ষায় দেখা গেল, দুই ভবিষ্যতের নেতার মার্কশিট দু’রকম। অভিষেক শুধু নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার বাঁচাতে পেরেছেন। সেখানে জয়ের ব্যবধান গতবারের তুলনায় অনেকটাই বাড়িয়েছেন। কিন্তু পর্যবেক্ষক হিসাবে তাঁর যে দুই জেলার মুখ্য দায়িত্ব ছিল, সেখানে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। ডায়মন্ড হারবার লোকসভার আওতায় সব বিধানসভাতেই তৃণমূলের লিড রয়েছে। কিন্তু বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার তিনটি লোকসভা কেন্দ্রেই জেতা আসন খুইয়েছে বাংলার শাসক দল। সবকটি বিধানসভায় যে ভাবে হেরেছে, তাতে রাজনৈতিক ভাবে জমি হারানোর ছবিটা স্পষ্ট।
অন্য দিকে শুভেন্দুর দায়িত্বে ছিল লোকসভার আটটি আসন। নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও তমলুক লোকসভা কেন্দ্র এবং মুর্শিদাবাদের তিনটি, মালদহ-র দু’টি ও উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র। সে ছাড়া চারটি বিধানসভার উপ নির্বাচনের দায়িত্বও ছিল তাঁর। বলে রাখা ভাল যে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং রায়গঞ্জে কস্মিন কালেও লোকসভার আসন জেতেনি তৃণমূল। এমনকি গত বিধানসভা ভোটে গোটা বাংলায় বিপুল সাফল্য পেলেও এই তিন জেলায় তৃণমূলের সাফল্য ছিল অধরা। সেই কারণেই শুভেন্দুকে এই তিন জেলার পর্যবেক্ষক করেছিলেন দিদি।
ফল প্রকাশের পর মার্কশিটে দেখা গেল, তমলুক ও কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে বিপুল ব্যবধানে জিতেছে তৃণমূল। শুভেন্দুর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে সত্তর হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছে শাসক দল। সেই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার দু‘টি আসন মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুরে জিতেছে তৃণমূল। বহরমপুরে গত লোকসভা ভোটে সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। সেখানে পরাজিত হলেও এ বার অধীরবাবুর জয়ের ব্যবধান কমিয়ে ৮০ হাজারে নামাতে পেরেছেন শুভেন্দু। মালদহ উত্তর আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধানও খুব বেশি নয়। ভোট কাটাকাটির খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। তা ছাড়া বৃহৎ ছবিটা হল, মুর্শিদাবাদের ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৮টিতেই লিড পেয়েছে তৃণমূল। মালদহে ১২টি বিধানসভার মধ্যে ১টিতে লিড পেয়েছে, উত্তর দিনাজপুরের ৯টি বিধানসভার মধ্যে ৫টিতে লিড পেয়েছে তৃণমূল। তা ছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি বিধানসভার ১৪টিতেই লিড রয়েছে তৃণমূলের।
এরই পাশাপাশি চারটি বিধানসভার উপ নির্বাচনে দু’টি আসনেই জিতেছে তৃণমূল। নওদা এবং ইসলামপুর। যে দুই আসনও আগে তৃণমূলের ছিল না।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তৃণমূলের কোনও মুখপাত্রই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে ঘরোয়া আলোচনা বলছেন, পাশাপাশি মার্কশিট রাখলেই যখন বোঝা যাচ্ছে, তখন প্রতিক্রিয়ার কী প্রয়োজন।
বস্তুত হাওড়ায় বছর খানেক আগে ওই কর্মিসভার পরেই দলের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, অসম তুলনা হল না কি! নন্দীগ্রামের আন্দোলন, জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে তৃণমূলের সংগঠন মজবুত করা থেকে শুরু শুভেন্দুর অবদান তৃণমূলে কম নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে তাঁর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে দৌড়ঝাঁপও দিদি ছাড়া দলের বাকি সব নেতার থেকেই বেশি। তুলনায় বয়সে নবীন অভিষেক। অভিজ্ঞতাতেও নবীন। লোকসভার ভোট ফলাফল দু’জনের মধ্যে ফারাকটা আরও স্পষ্ট করে দিল।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-shubhrangshu-roy-says-his-father-mukul-roy-destroys-tmc-alone/