
শেষ আপডেট: 30 August 2023 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: বহরমপুরের কলেজছাত্রী সুতপা চৌধুরী খুনে (Sutapa Chawdury Murder Case) দোষী সাব্যস্ত হওয়া সুশান্তর ফাঁসির দাবি জানালেন সরকারি পক্ষের আইনজীবী। সুশান্তর আইনজীবীরা পাল্টা দাবি করেন আবেগের বশে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। বয়স বিচার করেই তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন বহরমপুরের (Beharampore Court) তৃতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সন্তোষকুমার পাঠক। মঙ্গলবারই বহরমপুর গার্লস কলেজের ছাত্রী সুতপা চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করা হয় প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরীকে।
২০২২ সালের ২ মে। দিনটা ছিল সোমবার। সন্ধে ৬ টা ৩৫ মিনিটে বহরমপুর শহরের গোরাবাজারের অভিজাত পাড়ায় ঘটেছিল সেই হাড়হিম করা ঘটনা। এক বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন সুতপা। সিনেমা দেখে ফেরার সময় সুতপার পিছু নেয় সুতপারই প্রাক্তন প্রেমিক সুশান্ত। মেসের সামনে আসতেই হামলা করে সে। খুনের ছবি ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শামসেরগঞ্জের কাছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে সুশান্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার ৭৫ দিনের মাথায় বহরমপুর আদালতে সুতপা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পেশ করা হয়। সুশান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) ও ২০১ ধারায় (প্রমাণ লোপাট) চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালতে জমা পড়ে ৩৮৩ পাতার চার্জশিট। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, পুর্বপরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয় ওই কলেজ ছাত্রীকে।
বহরমপুর গার্লস কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন সুতপা । মালদহের বাড়ি থেকে বহরমপুরে পড়তে এসেছিলেন তিনি। আইনজীবীদের দাবি, সুতপাকে খুনের উদ্দেশ্যেই বহরমপুরে এসেছিল সুশান্ত। সুতপার উপর নজর রাখতে বহরমপুরে একটি মেসে থাকতে শুরু করে সে।
অভিযুক্ত সুশান্তকে খুনের পর পালাতে দেখেছিলেন যে দুই সাক্ষী, তাঁরা জানান, খুনের পর পাঁচিল টপকে পালায় সুশান্ত। এরপর যায় তার মেসে। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সরকারি আইনজীবীরা আদালতে জানান, কলেজ পড়ুয়া সুতপার দেহে ৪২ টি আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা সুতপাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে খেলনা পিস্তল দেখিয়ে তাদের খুনের হুমকি দেয় সুশান্ত।
তদন্তে উঠে আসে, সুতপা চৌধুরীর উপর রাগ ও হতাশা থেকেই এই খুন। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা বয়ান দেওয়ারও চেষ্টা করে সুশান্ত। তবে লাভ হয়নি। শুনানি চলাকালীন ৩৪ জনের সাক্ষী গ্রহণ করে আদালত। তদন্তে রয়েছে একাধিক ‘ইলেকট্রনিক এভিডেন্স’ ও। রয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, এক সাক্ষীর নেওয়া ভিডিও ফুটেজ, অভিযুক্তের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন, কল রেকর্ড। পুলিশ জানিয়েছে, সুশান্তর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুতপা চৌধুরীর। সুতপা সেই সম্পর্ক ভেঙে বেড়িয়ে আসতেই এই কাণ্ড ঘটায় অভিযুক্ত।
আরও পড়ুন: যাদবপুর কাণ্ডে জামিন তিন পড়ুয়ার, তবে জেলমুক্তি হবে একজনের