
শেষ আপডেট: 1 December 2022 08:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: তাঁর কথায় নাকি গড়বেতায় একসময় বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খেত। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ (Susanta Ghosh) সম্পর্কে কেউ ভয়ে, আবার কেউ ভক্তিতে এই কথা বলতেন। এই সিপিএম (CPIM) নেতা ১৯৮৫ সালে গড়বেতা থেকেই প্রথম বিধায়ক হন। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটেও গড়বেতা (Garbeta)থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। তবে ওই ভোটেই দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ দিন গড়বেতায় ঢুকতে পারেননি। পরে গড়বেতার কিছু এলাকায় যেতে পারলেও এক সময়ের লাল ঘাঁটি খড়কুশমা এলাকা এতোদিন অগম্যই ছিল সুশান্ত ঘোষের কাছে। তবে বুধবার তাঁর নেতৃত্বেই খড়কুশমায় বিশাল মিছিল করল সিপিএম (CPIM Rally)। ২০১১ সালের পর প্রথম সেখানে পা রাখেন এই দাপুটে সিপিএম নেতা।
রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের 'হার্ডলাইনার'-দের কাছে গড়বেতার খড়কুশমায় সুশান্তর পা রাখা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই এলাকাতেই বাড়ি বাম জমানার বিতর্কিত কেশপুর লাইনের অন্যতম দুই ততোধিক বিতর্কিত চরিত্র তপন ঘোষ ও সুকুর আলির। সুকুর আগেই মারা গিয়েছেন। তবে তপন ঘোষকে বুধবারের মিছিলে সুশান্তর পাশাপাশি হাঁটতে দেখা গিয়েছে।
সিপিএম আমলে এই খড়কুশমায় লাল পতাকা ছাড়া অন্য কিছু প্রায় দেখাই যেত না। কিন্তু জমানা বদলের পর রাজ্যের অন্যান্য বাম ঘাঁটির মতো এখান থেকেও কার্যত ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছিল লাল ঝান্ডা। তবে চলতি বছরে সুশান্ত ঘোষ সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই এই এলাকাগুলোয় ঢোকার চেষ্টা শুরু করেন। বুধবার পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, ১০০ দিনের প্রকল্পের বকেয়া টাকা প্রদানের মতো গ্রামীণ ইস্যুগুলি নিয়ে গড়বেতার খড়কুশমায় মিছিল করে সিপিএম। ঢাক-ঢোল নিয়ে করা সেই মিছিলে ভালোই ভিড় হয়েছিল।
সিপিএমের এই মিছিল পঞ্চায়েত ভোটকে লক্ষ্য রেখে নেওয়া রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হলেও দীর্ঘদিন পর খড়কুশমায় পা রেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন সুশান্ত ঘোষ। বলেন, "গড়বেতার মিছিলে এত মানুষ দেখে আমি নিজেই হতচকিত হয়ে পড়ি। ওখানকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাঁদের এনার্জি বুঝিয়ে দিয়েছেন। মানুষ যদি সামনের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে রাজ্যের শাসকদলের কী অবস্থা হবে তা ওরা এখনও বিন্দুবিসর্গও বুঝতে পারছে না। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কম্বলবিলি করতে নেমেছেন।"
এদিকে তৃণমূল (TMC) সুশান্ত ঘোষের এই মিছিলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়নি। শাসকদলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা অবশ্য খড়কুশমা এলাকায় তাঁদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। সেইসঙ্গে সিপিএমকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "ওরা যদি ভাবে খড়কুশমায় ২০১১ এর আগের পরিস্থিতি তৈরি করবে, তাহলে ভুল ভাবছেন। তৃণমূল সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাই যে কেউ মিটিং-মিছিল করতে পারে।" পঞ্চায়েত নির্বাচনে খড়কুশমায় তৃণমূলই জিতবে বলে দাবি করেছেন সুজয়বাবু।
অনুব্রতকে এখনই দিল্লি নিয়ে যেতে পারবে না ইডি, সাময়িক স্বস্তি কেষ্টর