
শেষ আপডেট: 16 July 2018 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতোদিন যা ছিল স্রেফ রাজনৈতিক তরজা। এ বার কার্যত তাকেই স্বীকৃতি দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বাংলায় বিরোধীদের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ ছিল, স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম (এসআইটি) গঠন করে সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে বাধা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এসআইটি বার বার নানা অজুহাতে ডেকে পাঠাচ্ছে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারদের। যাতে দেরি হয় তদন্তে।
একই অভিযোগ নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই। সেই মামলার শুনানির পর সোমবার বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং এস এ আবদুল নাজিরের বেঞ্চ জানিয়ে দিল,
"এই প্রবণতা দুঃখজনক। এই ভাবে একে অপরের কাজে বাধা দিতে পারে না রাজ্যের এসআইটি ও কেন্দ্রের সিবিআই। এর জন্য দোষীদের শাস্তি দিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। এটা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না।” সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের স্পষ্ট নির্দেশ, “রাজ্যের এসআইটি বা পুলিশ কোনও অজুহাতেই আর ডাকতে পারবে না সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারদের। কারণ চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্তের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।"
সিবিআইয়ের আইনজীবী এ দিন কোর্টে বলেন, এজেন্সি এই মামলার তদন্ত হাতে নেওয়ার পরপরই তদন্তের প্রকৃতি বুঝতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল এসআইটির কমিশনারকে। কিন্তু তারপর আর কখনও এসআইটির কাউকে ডাকেননি তাঁরা।
জবাবে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করে দুই দুঁদে আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারদের অভিযুক্ত হিসাবে কখনওই ডেকে পাঠানো হয়নি। তবে অন্য একটা ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অনুযায়ী ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁদের।
সুপ্রিম কোর্ট তখনই পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, কোনও কারণেই আর সারদা মামলার তদন্তকারী অফিসারদের ডাকতে পারবে না রাজ্যের এসআইটি।
২০১৪, সালে রাজ্যের বহু আপত্তি সত্বেও সুপ্রিম কোর্ট সারদা মামলার তদন্তের ভার তুলে দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। একই সঙ্গে এই তদন্তে ইডিকেও যুক্ত করে শীর্ষ আদালত। এই ব্যাপারের পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ওড়িশার পুলিশকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এই মামলায় তৃণমূলের নানা স্তরের নেতা মন্ত্রীদের গ্রেফতার করা হলেও, এখনও অবধি শেষ হয়নি তদন্ত।
রাজ্য সরকার ও সিবিআই দু’জনকেই কড়া কথা শুনিয়ে বিচারপতি অরুণ মিশ্র এ দিন বলেন, “২০১৪ সালে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তদন্তের কোনও অগ্রগতি হয়নি। অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তদন্তকারী অফিসাররা যেন এটাকে আর হাল্কা ভাবে না নেন।”