দ্য ওয়াল ব্যুরো: তলিয়ে গেল ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বসিরহাটের ইটিন্ডা ফেরিঘাট থেকে পানিতর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীবাঁধের কিনারা। তার সঙ্গে ইছামতীর গর্ভে তলিয়ে গেল মৎস্যজীবীদের তিনশোর বেশি নৌকা। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছেন চার হাজার মৎস্যজীবী পরিবার সমেত প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ। তাঁরা এখন প্রায় সর্বস্বান্ত।
করোনার জন্য লকডাউনের ফলে সাহায্য হিসাবে চাল-ডাল তাঁরা পেয়েছিলেন। বইপত্র, অন্য নথি – এসব বাড়িতেই থাকে। চাল-ডাল, বই-পত্র -- এসব বেঁচে গেছে। কিন্তু নৌকার সঙ্গে নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে মাছ ধরার জাল। ঘুর্ণীঝড় উমফানের প্রভাবেই এই বাঁধের কিনারা ভেঙে তলিয়ে গেছে। সামনেই ভরা কোটাল। তখন যে কী হবে সে কথা কেউ ভেবে উঠতে পারছেন না। এখন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন শ’পাঁচেক মানুষ। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের খাবারের বন্দোবস্ত করেছেন।
দুর্যোগের পর থেকে আজ পর্যন্ত আশ্রয়হীন এই সব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। পাশে রয়েছে একাধিক সংগঠন। তবে এভাবে কত দিন চলবে? নতুন করে কংক্রিটের বাঁধ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তো সমস্যা দূর হবে না। আর এই বাঁধ তৈরি সহজ কথা নয়। তাই কত দিন এভাবে চলবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। তত দিন পর্যন্ত এই সব পরিবারগুলির কী ভাবে চলবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকার লোকজন।
গত ২০ মে সন্ধ্যায় এখানে আছড়ে পড়ে ঘুর্ণীঝড় উমফান। তারপরে রাত পর্যন্ত চলে তার তাণ্ডব। সামনে ভরাকোটাল। নদীর দিকে তাকিয়ে বসে আছেন ইছামতীর পাড়ের মানুষজন। নদীগর্ভে চলে যাওয়া তিন কিলোমিটার কংক্রিটের বাঁধ এখনই মেরামত করা না হলে বিপদ আরও বাড়বে বৈকি। যাঁর যেটুকু বেঁচে আছে সেটুকুও নদীর গর্ভে চলে যাবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
https://www.youtube.com/watch?v=TNXoai046xg
এখন ইছামতি নদীর জলে তিনটি গ্রাম জলবন্দি হয়ে রয়েছে। নদীতে তিনশোর বেশি নৌকা ডুবে গেছে। নদীর পাড়ে থাকা নৌকাগুলো ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে। কারও কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। ইছামতীর পাড়ে ইটিন্ডা পানিতর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইটিন্ডা, পানিতর ও নাগরাজ পাড়া আবার নতুন করে আতঙ্কের প্রহর গুনতে শুরু করেছে। কারণ সামনেই ভরা কোটাল।
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “উমফানে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন অঞ্চলের নদীবাঁধগুলি পুনর্নিমাণ করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। কোন অঞ্চলে কত মিটার বা কত কিলোমিটার নদীবাঁধ ভেঙেছে সেই হিসাব ব্লকের মাধ্যমে চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। আমরা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের খতিয়ান রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছি। বেশ কয়েকটি জায়গায় কেন্দ্রীয় সরকারের (সিপিডব্লিউ) কাজ চলছিল। সেগুলিকে বাদ দিয়ে হিসাব করা হচ্ছে। সামনের পূর্ণিমায় যে ভরা কোটাল আসছে তার আগে কংক্রিকেট বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলি দিয়ে যাতে পুনরায় গ্রামগুলি প্লাবিত না হয় তার জন্য পঞ্চায়েত স্তরে বাঁশের খাঁচায় বালি কিংবা মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে সাময়িক বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ চলছে। লকডাউনের ফলে কাজ হারানো গ্রামবাসীদের ১০০ দিনের কাজের আওতায় এনে সেই কাজ করা হচ্ছে যাতে তাঁরা আর্থিক সহায়তা পান। যত দ্রুত সম্ভব জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে কংক্রিট বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।”
বারো দিন আগে উমফানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পানিতরও ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপর থেকে ক্ষতির বহর বেড়েই চলেছে। ভরাকোটালে যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় এখন সেই চেষ্টাই করছেন গ্রামবাসীরা।