দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটের আগে যেন টি-টোয়েন্টি চলছে এখন। যদি তাই হয়, তা হলে বলা যেতে পারে সোমবার যুগ্ম ‘ম্যান অব দ্য ডে’ হলেন বনগাঁর বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং।
বিশ্বজিৎ ও সুনীল বহু আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সূত্রের দাবি, তাঁদের ঘরে ফেরানোর দৌত্যও নাকি চলছিল অনেক দিন ধরে। কারণ, এক বার ফিরিয়ে আনতে পারলেই মুখ পুড়বে বিজেপির।
সোমবার দুপুরে বিধানসভার অলিন্দে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি পড়ে যান। বিশ্বজিতের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ভগ্নীপতি তথা নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং। বিশ্বজিৎকে দেখে মমতা বলেন, "কীরে, কিছু ভাবলি?"
আশপাশে তখন বেশ কয়েক জন সাংবাদিকও। বিশ্বজিৎ চুপ করে থাকেন। তার পর আধ ঘন্টা বাদে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ঢুকতে দেখা যায় বিশ্বজিৎ ও সুনীলকে।
এটুকু দেখেই দুয়ে দুয়ে চার করে ফেলেছিলেন অনেকে। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ ঘুরতে ঘুরতে দশ মিনিটের মধ্যেই খবর চলে যায় হেস্টিংসে। ওখানে বিজেপির নির্বাচন অফিস। তার পর ফোন ফোন ফোন...।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে দুই বিধায়ক বেরোতেই তাঁদের ছেঁকে ধরেন সাংবাদিকরা। জবাবে দুজনেই বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েছিলেন।
আর কয়েক দিনের মধ্যেই ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে বলে অনুমান করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে নতুন প্রকল্পের সুযোগ এখন কম। তা ছাড়া বিজেপিতে যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁদের দাবি মেনে সরকার প্রকল্পে সাহায্য করবে এমন সহযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাংলা থেকে কবেই উবে গেছে বলে কৈলাস-মুকুলরাই বলেন।
তা হলে?
গেরুয়া সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিতের নাকি উষ্মা যে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর তাঁর বিরোধিতা করছেন। তাঁকে যাতে টিকিট দেওয়া না হয় সেই চেষ্টায় রয়েছেন। সুনীলের ব্যাপার নাকি ভিতরকার বিষয়। শেষমেশ তাঁদের বুঝিয়ে হেস্টিংসের পার্টি অফিসে আনা হয়।
সন্ধ্যায় দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর পাশে সুনীল সিং দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর সম্বর্ধনা সভায় বসে রয়েছেন বিশ্বজিৎ। আপাত দর্শনে কে বলবে যে দুপুর থেকে বিকেল ঝড় বয়ে গেছে।
উনিশের ভোটের ব্যারাকপুর ও বনগাঁ এই দুই মহকুমাতেই বিপর্যয় হয়েছিল শাসক দলের। তার পর এই দুই বিধায়ক বেরিয়ে যেতে আরও ধাক্কা খায় শাসক দল। ফলে এঁদের ঘরে ফেরাতে পারলে স্থানীয় কর্মীদের মনোবল বাড়বে বলেই তৃণমূলের অনেকে মনে করেন।
সোমবার এ ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “বিজেপিতে চলে গেলে গদ্দার, মীরজাফর, ভোগী। ফিরিয়ে আনতে পারলে তাঁরাই আবার একনিষ্ঠ, একলব্য ও ত্যাগী। সাব্বাস! এই না হলে তৃণমূল!”