দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে পরে ২০ ডিসেম্বর দুপুরের কথা? হঠাত্ খবর, বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ তৃণমূল ভবনে হাজির। যোগ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে।
লোকসভা ভোটের সময় এই সুজাতাই কী আগ্রাসীই না ছিলেন দিদির বিরুদ্ধে। কিন্তু রাজনীততে সব হয়। সেই সুজাতা যোগ দেন তৃণমূলে। দুঘণ্টার মধ্যে পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে সৌমিত্র নানা কথা বলতে বলতে অঝোরে কান্নাকাটি শুরু করেন। হাইভোল্টেজ পলিটিক্যাল মেলোড্রামা। সৌমিত্র এও বলেন, তিনি সুজাতাকে ডিভোর্স দেবেন। পরের দিনই সেই নোটিস পাঠিয়ে দেন তিনি।
রবিবার বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী সৌমিত্রকে চিঠি পাঠালেন সুজাতা। তাতে তৃণমূল নেত্রী লিখেছেন, “আমি কোনওদিনও বিচ্ছেদ চাইনি। আমি আজও ডিভোর্সে রাজি নই। তোমার থেকে আলাদা হব, একথা আজও আমি ভাবতে পারি না।”
এরপরই পুরনো স্মৃতি উস্কে সুজাতা লেখেন, “গত ১০ বছরে একসঙ্গে বহু চড়াই-উতরাই আমরা পেরিয়েছি। সব পরিস্থিতিতে আমি তোমার পাশে থেকেছি। সঙ্গে থেকেছি। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই তুমি আমাকে পর করে দিলে।”
সুজাতা আরও লিখেছেন, "বিজেপি ছাড়তেই তুমি কান্নাকাটি করলে, বললে ওরা তোমার ঘরের লক্ষ্মী চুরি করেছে। আবার বিচ্ছেদের নোটিসও পাঠালে। যদি সত্যিই ঘরের লক্ষ্মী মনে করতে তবে কি পারতে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত দিতে? আর যদি তা মনে না কর, তাহলে তুমি যে অভিনয় করেছ, তা নিঃসন্দেহে দারুণ।”
সৌমিত্র তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যে অভিযোগ করেছেন বলেও এদিন দাবি করেন সুজাতা। পাশাপাশি গোটা ঘটনার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। বলেন, “তোমার আমাকে ডিভোর্সের নোটিস পাঠানোই প্রমাণ করে দিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্ত স্ত্রীকে নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হবে।” দাবি করলেন, বিজেপি সৌমিত্রকে ভুল বোঝাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসী সুজাতা লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়েই লড়বেন তিনি। চিঠির শেষভাগে স্বামীকে তাঁর সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার পরামর্শ দেন সুজাতা। ফের বলেন, ভালবাসার কথা। উল্লেখ্য, কিছু জিনিস আনতে ১ ফেব্রুয়ারি সৌমিত্রর বাড়িতে যাবেন বলেও চিঠিতে জানিয়েছেন সুজাতা।
যদিও এরপর সৌমিত্রর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।