মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝে এনআরসির আতঙ্কে আত্মহত্যা, মোদী-শাহকে অভিযুক্ত করে এফআইআর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসির আতঙ্কেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার পরে এমনই অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুধু জলপাইগুড়ি জেলাতেই ছ’জনের মৃত্যুতে এনআরসি
শেষ আপডেট: 2 January 2020 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসির আতঙ্কেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার পরে এমনই অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুধু জলপাইগুড়ি জেলাতেই ছ’জনের মৃত্যুতে এনআরসি আতঙ্কের কথা বলা হয়েছে। মৃতের বাড়ি ডুয়ার্সের ক্রান্তি ফাঁড়ির অন্তর্গত চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পূর্ব দোলাইগাঁও গ্রামে।
তাঁর বাড়ির তরফে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তির ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডে নাম ভুল ছিল। ‘নাগরিকত্ব প্রমাণ করা’র মতো জমির কাগজপত্রও তাঁর কাছে ছিল না। গত কয়েক মাস ধরে এনআরসি সংক্রান্ত নথিপত্র জোগাড় করা নিয়ে মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন পেশায় দিনমজুর আবদুল কাশেম (৩৮)। মানসিক অবসাদ তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। অবসাদগ্রস্ত হয়ে মাঝে মাঝেই এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছে তিনি জানতে চাইতেন, তাঁর কাছে উপযুক্ত কাগজপত্র নেই বলে তাঁকে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে হবে না তো?
আব্দুল কাশেমের স্ত্রী আনসুরা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছেন গতকাল সন্ধ্যায় তাঁরা সকলে মিলে টিভিতে খবর দেখছিলেন। ওই সময় টিভিতে এনআরসি সংক্রান্ত কিছু দেখাচ্ছিল। এরপর তাঁর স্বামী হঠাৎ উঠে পড়ে বলেন, “আমার বেঁচে থেকে লাভ নেই।” একথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে চলে যান। অনেকক্ষণ পর বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন বাড়ির লোকজন। বাড়ির কাছে একটি গাছে তাঁকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এফআইআরে তিনি লিখেছেন, “আমার স্বামী এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছে। এর দায় নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের।”

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী জানান, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় গত সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে আজ অবধি ছ’জন এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ।
২০ সেপ্টেম্বর আত্মঘাতী হন ময়নাগুড়ির অন্নদা রায়। ধূপগুড়ির বাসিন্দা শ্যামল রায় ও জলপাইগুড়ি বাহাদুর এলাকার সাবেদ আলি দু’জনেই আত্মঘাতী হন ২৪ সেপ্টেম্বর। ২৩ অক্টোবর মাল মহকুমার ক্রান্তি এলাকার বাসিন্দা দেবারু মহম্মদ আত্মঘাতী হন এনআরসি আতঙ্কে। ৫ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ি বাহাদুর এলাকার মহম্মদ শাহাবুদ্দিন আত্মঘাতী হন। ২০২০ সালে বছরের প্রথম দিন আত্মঘাতী হলেন ক্রান্তির দলাই গাঁওয়ের আব্দুল কাশেম।