
শেষ আপডেট: 4 May 2022 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাকে মোবাইলে কথা বলতে বলতে উদভ্রান্তের মতো হাঁটতে অনেকেই দেখেছিলেন, কিন্তু কেউই আন্দাজ করেননি কী হতে চলেছে। এমনকি তিনি মোবাইল, গায়ের গয়নাগাঁটি খুলে রাখার পরেও বুঝতে পারেননি কেউ কিছু। মুহূর্তের মধ্যে সবাইকে চমকে দিয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন তিনি (Suicide Attempt)! ভেসে যেতে লাগলেন দূরে। মঙ্গলবার সকালে চুঁচুড়ার ময়ূরপঙ্খী ঘাটের এই ঘটনায় নিমেষে হইচই পড়ে যায়। চেঁচিয়ে ওঠেন সকলে।
কিন্তু সকলের মধ্যেই একজন ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া। চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মী সৌমেন দাস। বাবুগঞ্জের বাসিন্দা তিনি, ময়ূরপঙ্খী ঘাটে লটারির দোকানও আছে তাঁর। শার্ট খুলে সটান নদীতে ঝাঁপ দিলেন তিনিও। সাঁতরে এগোতে চেষ্টা করলেন মহিলার দিকে। ততক্ষণে প্রবল স্রোতের টানে দূরে চলে যাচ্ছেন ওই মহিলা। তাঁর দুটো হাত কেবল দেখা যাচ্ছে, শরীর ডুবে গেছে।
কোনওরকমে সাঁতার কেটে পৌঁছে ওই মহিলাকে ধরেও ফেলেন তিনি। কিন্তু আর এক বিপদ। নিজেকে ভাসানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা নেই তাঁর। ওঁকে বাঁচাতে গিয়ে সৌমেনেরও ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা! ওই মহিলা যেন মারা যাবেন বলে পণ করেছেন (Suicide Attempt)! সৌমেনও গঙ্গাপাড়ে বেড়ে ওঠা যুবক। সাঁতারে রীতিমতো দক্ষ। কোনও রকমে ওই মহিলাকে টেনে পাড়ে এনে ফেলেন তিনি। ততক্ষণে ভিড় বেড়েছে ঘাটে। সবাই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন জীবিত অবস্থায় মহিলাকে তুলে আনায়।
মদ খেয়ে পুলিশের গড়াগড়ি, আসানসোল কোর্ট চত্বরে কী কাণ্ড
কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটালেন ওই মহিলা? জানা গেছে, ছেলের সঙ্গে তুমুল অশান্তি করে নিজেকে শেষ করে দিতে এসেছিলেন (Suicide Attempt) হুগলি স্টেশন এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা। তাঁর কথায়, "বাড়িতে ২০ বছরের ছেলের সঙ্গে রোজ অশান্তি হচ্ছে। ওর বাবা নেই। বখাটে ছেলেদের পাল্লায় পড়েছে। যখন তখন আসর বসাচ্ছে বাড়িতে। আজ সকালে গোলমাল চরমে ওঠে। ঠিক করি, আর বাঁচব না, নিজেকে শেষ করে দেব। তা আর হল না!"
গোটা ঘটনায় বিস্তর প্রশংসা কুড়িয়েছেন সৌমেন। তিনি জানালেন, চোখের সামনে মহিলাকে ঝাঁপ দিতে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। যা হয় হবে, চেষ্টা তো করা যাক উদ্ধারের, এই ভেবে জলে ঝাঁপ দেন তিনিও। শেষমেশ মহিলাকে বাঁচাতে পেরে খুশি তিনি।