দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন হাসপাতালে। সোমবার সন্ধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বিতর্কিত চিটফান্ড সংস্থার কর্তাকে। জেলবন্দি সুদীপ্ত সেনের মলদ্বারে ফোঁড়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জেল হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব নয় বলেই তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের মেন ব্লকের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকরা রক্তে সেপসিস হাওয়ার আশঙ্কা করছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করতে চাইলেও তিনি রাজি নন।
গত মাসে বারাসতে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে হাজিরা দেওয়ার দিনই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সারদা মামলার বিচার প্রক্রিয়ার দেরি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল সারদা কর্তাকে।প্রথমে কিছু বলতে চাননি তিনি। তার পর তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আচমকাই ভেঙে পড়েন। ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁর সমস্ত কিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বেঁচে থাকার মতো আর কিচ্ছুটি বাকি নেই তাঁর। এখন তিনি মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
এসএসকেএম-এর সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা চলছে সারদা কর্তার। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর শরীরে লিউকোসাইটের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেড়ে গেছে। মোট লিউকোসাইট কাউন্ট প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে প্রায় ২২ হাজারে পৌঁছেছে, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ঘন মিলিমিটারে ১১ হাজারের মধ্যে থাকা উচিত বলে চিকিৎসকদের বক্তব্য। তাঁর শারীরিক অবস্থা বুঝেই আগামিকাল মঙ্গলবার অথবা বুধবার অস্ত্রোপচার করা হতে পারে।
সারদা নিয়ে সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে ১৪৬টি মামলা করেছিল রাজ্য সরকার। তদন্তে নেমে সিবিআই তার ৭৩টি মামলা একত্র করে ৬টি মামলা দায়ের করে আদালতে। বাকি ৭৩টি মামলা রয়ে যায় রাজ্যের হাতেই। রাজ্যের হাতে থাকা ৭৩টি মামলার মধ্যে ৬৯টি মামলাতেই আদালত সুদীপ্তকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে। সারদা কর্তা এই মুহূর্তে সিবিআইয়ের করা অসমে দু’টি মামলা, ওড়িশায় দু’টি মামলা এবং অসমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর একটি মামলায় জেলবন্দি রয়েছেন। কিন্তু এখনও সারদা নিয়ে সিবিআইয়ের কোনও মামলাতেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বিভিন্ন আইনগত জটিলতার কারণে।