দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুপুরবেলা লালগড়ের নেতাই থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বাছা বাছা বিশেষণ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা মদন মিত্র।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হওয়ার আগেই তমলুক থেকে তার পাল্টা দিলেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা তরুণ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ছত্রধর মাহাতোদের মঞ্চে বসিয়ে মদন বেলাগাম আক্রমণ শানিয়েছিলেন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। সন্ধেবেলা শুভেন্দু বলেন, “২০১২ সাল থেকে এরা নেতাইতে শহিদবেদীতে মালা দিতে আসেনি। এখন তাদের পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী আর মাননীয়ার ভাইপো, তৃণমূল কোম্পানি।” এর পরেই শুরু হয় তোপ দাগা। মদনের নাম না করে শুভেন্দু বলেন, “একজনকে পাঠিয়েছে যে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে আর ফেসবুকে লাইভ করে। সে এসে বড় বড় কথা বলে যাচ্ছে। তিনি যে ভাষায় কথা বলে গেছেন আমি সেসব বলতে পারব না। আমরা তো বিদ্যাসাগরের দেশের লোক!”
কী বলেছিলেন মদন?
এমনিতে মদন মিত্রর বক্তৃতা মানেই এনকে সলিলের মতো গরম গরম ডায়লগ। এদিন সেসবের সঙ্গেই শুভেন্দুর উদ্দেশে দুটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে গিয়েছেন ট্যাক্সি ইউনিয়নের একদা অবিসংবাদী নেতা। এক, পার্টি যদি অনুমতি দেয় তাহলে একুশের ভোটে মদন দাঁড়াবেন নন্দীগ্রামে। কার কত দম দেখা যাবে। একই সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ, শুভেন্দুর যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে যেন কামারহাটিতে দাঁড়ান।
এর সঙ্গেই মদন বলেন, তিনি বুথে বুথে এমন তৃণমূলকর্মী জন্ম দিতে পারেন যাঁরা শুভেন্দুকে টিপে মারতে পারে। উপরি ছিল মদনের মুখে ‘মা তুঝে সালাম’-এর সানি দেওলের সংলাপ। দুধ চাইলে ক্ষীর দেব। বাংলা চাইলে চিড়ে দেব।
মদন কী বলেছেন ততক্ষণে শুভেন্দুর কানে চলে গিয়েছে। তমলুকের মঞ্চ থেকে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা বলেন, “আমি জানি না আর কেউ জেল থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন কিনা। উনি দাঁড়িয়েছিলেন। কী বলব, এসব কাউকে বলি না। তবে সত্যিটা জানা দরকার। ২০১৬-র ভোটে ওঁর হয়ে কামারহাটিতে কেউ প্রচার করতে যেতে চাইছিল না। ওঁর ছেলে-মেয়েরা আমাকে অনুরোধ করে, আমি গিয়ে কামারহাটিতে কর্মিসভা করে এসেছিলাম।”
সারদা তদন্তে গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন মদন। যদিও ১৬-র ভোটে সিপিএমের মানস মুখোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান তিনি। ভাটপাড়া উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবনের কাছে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে হারতে হয় বর্ষীয়ান এই নেতাকে। এদিন সেকথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন শুভেন্দু। সেইসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “কাচের ঘরে বসে ঢিল ছুড়বেন না বন্ধু!”