দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ ডাকে গাছদাদু বলে, কেউ বা আবার গাছকাকু! তিনি এই নামেই পরিচিত সকলের মুখে মুখে। ষাটোর্ধ্ব মানুষটির এই পরিচয়ের পেছনে রয়েছে ১১টা বছরের পরিশ্রম, ভালবাসা, আন্তরিকতা।
মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল এলাকার খড়িকাশুলি গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ মাহাতো। তাঁর নেশা, গাছ লাগানো। যে-সে গাছ নয়, বট, অশ্বত্থ, পাকুড়-সহ বিভিন্ন রকমের বড় বড় বৃক্ষজাতীয় গাছ লাগানোর প্রবল নেশা তাঁর। আর তাই নিজেই এদিক-ওদিক গাছের চারা খুঁজে বেড়ান তিনি। যেখানেই বট বা অশশ্বত্থর মতো কোনও বড় গাছের চারা দেখতে পান, তা বাড়িতে নিয়ে এসে লালন-পালন করে বড় করে তোলেন। তারপর সেগুলি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নিজে হাতেই লাগিয়ে দেন।
সুভাষ মাহাতোর এই কাজে তাঁর সঙ্গী, সাহায্যকারী হিসেবে থাকে পাড়ারই খুদেরা। তারাও যে বড্ড ভালবাসে গাছদাদুকে! আর এইভাবেই গত ১১ বছর ধরে তিনি নিজের গ্রাম ছাড়াও জেলা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যে বট-অশ্বত্থের চারা লাগিয়েছেন। সংখ্যাটা পেরিয়েছে তিন হাজার।
তবে শুধু গাছ লাগিয়েই কাজ শেষ নয় গাছ-পাগল বৃদ্ধের। গ্রীষ্মের খর দাবদাহ হোক বা প্রবল ঝড়বৃষ্টি, নতুন লাগানো কোনও গাছের চারার যাতে ক্ষতি না হয়, তা দেখতে নিজেই বেরিয়ে পড়েন। রোদ-জল মাথায় নিয়ে গাছের পরিচর্যা করেন পরম স্নেহে।
এই গাছপ্রেমের পাশাপাশি সুভাষ মাহাতো তৈরি করেছেন একটি গানের দলও। নানারকম গান বেঁধে গেয়ে বেড়ান সে দলের সঙ্গে। গানের মাধ্যমে গাছ লাগানোর চিন্তাভাবনা বাচ্চাদের মধ্যে রোপন করার চেষ্টা করেন তিনি।
সুভাষ মাহতোর ছোট থেকেই নেশা ছিল বিভিন্ন ফলের চারা লাগানোর। তবে বড় গাছের প্রতি এই ভালবাসা অবশ্য পেশা সূত্রেই এসেছে তাঁর জীবনে। ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বনকর্মী হিসাবে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেছেন সুভাষবাবু। তখনই কাজের সূত্রে জেলার বিভিন্ন জায়গায় গাছের চারা লাগিয়েছেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিন্তাভাবনার বদল ঘটেছে তাঁর।
তাই এখন তিনি শুধুই চিন্তা করেন পরিবেশের জন্য, পাখিদের জন্য। তিনি জানান, বহু পাখি আজ পরিবেশ থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি ঠিক করেছেন, এই ধরনের বট-অশ্বত্থ গাছের মতো গাছ লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করবেন তিনি। আগামী দিনেও আমৃত্যু এই ধরনের গাছ লাগিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন সুভাষ মাহাতো।