
শেষ আপডেট: 16 July 2022 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কাটোয়া: বাড়িতে মজুদ ছিল বিপুল পরিমাণ মরফিন। সেই মরফিন থেকে তৈরি হতো হেরোইন। যা ছড়িয়ে পড়ত রাজ্যের বিভিন্ন কোণায়, শুধু তাই নয় রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে চলে যেত অন্য রাজ্যেও। দীর্ঘদিন ধরে কাটোয়ার রাজুয়া গ্রামের এক বাড়িতে চলছিল এমনই এক চক্র। শুক্রবার রাতে গোপনে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের পর্দা ফাঁস করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং কাটোয়া (Katwa) থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়িতেই ছোটখাটো ল্যাবরেটরি করে মরফিন থেকে নিষিদ্ধ হেরোইন (Heroin) তৈরি হতো। জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম রাজুয়ায় এক বাড়িতেই চলত এই মাদক চক্র। সেই বাড়ির মালিক মহম্মদ গোলাম মুর্শেদ দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির চৌহদির মধ্যেই হেরোইন তৈরি করত। আরও জানা গেছে মহম্মদ গোলাম ছিলেন একজন প্রাক্তন নৌসেনা।
শুক্রবার রাতে এই গোলাম মহম্মদের বাড়িতেই হানা দেয় এসটিএফ (STF) ও কাটোয়া থানার পুলিশ। তখন বাড়িতেই ছিল গোলাম এবং তার এক সঙ্গী। অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মরফিন উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি বিরাট অঙ্কের টাকাও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রের মোট চারজনকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। জানা গেছে, তাদের মধ্যে দু'জন হেরোইন বানানোয় দক্ষ। ধীরে ধীরে বাড়িতেই যন্ত্র বসিয়ে মরফিন থেকে দেদার তৈরি হতো হেরোইন। তারপর সেখান থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ত তা। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও চালান হতো এই হেরোইন। মহম্মদ গোলাম ছাড়াও, আঙ্গুর আলি, মিঠুন শেখ, মিনারুল শেখ নামে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
ধৃতদের থেকে এই চক্র সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। কোথা থেকে এই মাদক আনা হতো? কোথায় কোথায় বিক্রি করা হতো? আর কারা কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছে? এইসবই আছে অফিসারদের প্রশ্নমালায়। সবকিছু বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার কথা ফাঁস হতেই অবাক হয়েছেন রাজুয়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের নাকের ডগায় এতদিন এই চক্র চলত তা ভাবতেই পারছেন না তাঁরা। অনেকেই জানিয়েছেন, মহম্মদ গোলামকে ও তার বাড়ি দেখে বুঝতেই পারা যায়নি এই কাণ্ড ঘটছে।
টোটোয় শুয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম তড়িদাহত হনুমানের! বাঁকুড়ায় হনুমানের টোটোপ্রেমে সমস্যায় চালক