দ্য ওয়াল ব্যুরো দীর্ঘদিনের মনোবাসনা পূর্ণ হল বর্ধমানবাসীর। উত্তমকুমার নামের কিংবদন্তির সঙ্গে অনেকদিনের অনেক স্মৃতি এই শহরের। পুরোনো নস্টালজিয়া জাগিয়ে তুলতেই এবার সপ্তপদীর নায়কের ৯৪ তম জন্মবর্ষে বর্ধমানের রথতলা এলাকায় তার পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হল।
বৃহস্পতিবার, ৩রা সেপ্টেম্বর রথতলা মাঠে বসানো হল পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতিটি। বর্ধমানের কাঞ্চন উৎসব কমিটির উদ্যোগে বাংলার ম্যাটিনি আইডলের এই মূর্তি বসানো হয় বলে সংবাদসূত্রে জানা গেছে।
প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সাড়ে ছয় ফুটের এই মূর্তিটি। এদিন রথতলা মাঠে মূর্তিটির উদ্বোধন করেন উত্তমকুমারের পুত্রবধূ মহুয়া চট্টোপাধ্যায়। শহরের নীলপুরের শিল্পী মঙ্গল পাল মহানায়কের এই মূর্তিটি তৈরী করেছেন বলে উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়।
অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা খোকন দাস জানান বর্ধমানের বুকে উত্তমকুমারের মূর্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তাদের দীর্ঘদিনের। এ শহরে এখনও মহানায়কের অনুরাগীর সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। তাদের ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিতে অনেকদিন আগেই এই মহাতারকার মূর্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
বাংলার ঘরে ঘরে স্বপ্নের নায়ক হিসেবে দীর্ঘ কয়েকদশক রাজত্ব করে গেছেন মহাতারকা উত্তমকুমার। বর্ধমানের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অনেকদিনের। বেশ কয়েকবার বর্ধমানের নানা এলাকায় একাধিক সিনেনার শ্যুটিং করেছেন।বর্ধমানের রায়নার মুখার্জি বাড়িতে বেশ কয়েকদিনের অতিথি হয়ে বসবাস করে গেছেন। এছাড়া বর্ধমানের শিল্পী প্রয়াত ফকিরদাস কুমারের সঙ্গে তাঁর ছিল আত্মিক সম্পর্ক। তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া চালভাজা আর নাড়ু উত্তমকুমার আর সুপ্রিয়াদেবী অত্যন্ত পছন্দ করতেন। বর্ধমানের প্রয়াত অভিনেতা অজিত ঘোষের সঙ্গেও পরিচিতি ছিল উত্তমকুমারের। তাঁরা এক সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজও করেছেন।
বর্ধমানের বাস ব্যবসায়ী প্রয়াত শরৎ কোনার তার বাসগুলির নাম দিয়েছিলেন মহানায়ক ও তার বিখ্যাত ছবিগুলির নামে। প্রতিবছরই তাঁর জন্মদিনে নানা অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু শহরে এই প্রথম কোনো মূর্তি বসলো ম্যাটিনী আইডলের। সপ্তপদীর নায়কের ৯৪ তম জন্মবর্ষে এই মূর্তি বসায় খুবই খুশি বর্ধমানের শিল্পীমহল। উত্তমে মজে থাকা বর্ধমানবাসীর সেই আবেগের কথা মাথায় রেখেই এইবার মহানায়কের পূর্ণাবয়ব মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হল শহরে।