দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ভোরের আলোয়। ঘটনা ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য জলপাইগুড়িতে। এই ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জেলা তৃণমূলের অবশ্য বক্তব্য ভোরের আলোয় কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মদ্যপানে বাধা দেওয়ায় ভোরের আলোয় তাণ্ডব চালায় একদল যুবক। স্থানীয় ওই দুষ্কৃতীরা নিত্যই ওই এলাকায় মদ্যপানের আসর বসায় বলে অভিযোগ। প্রকাশ্যে মদ খেতে বারণ করায় এক মহিলাকে মারধর করে তারা। শ্লীলতাহানি করে। স্থানীয় দোকানদাররা এগিয়ে এলে শুরু হয় তাণ্ডব। একের পর এক দোকানে ভাঙচুর শুরু করে তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মিলনপল্লী ফাঁড়ির পুলিশ। এরপর পুলিশের সাথে শুরু হয় বচসা। বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। পুলিশের উপর হামলা চালাতে দেখে জোটবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসেন এলাকার মানুষ। তাঁরা তাড়া করে ধরে ফেলে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে। শুরু হয় গণপিটুনি। এলোপাথাড়ি মারধর করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গভীর রাত পর্যন্ত চলে পথ অবরোধ। ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন বিজেপির কিষাণ মোর্চার জেলা সভাপতি নকুল দাস। তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের জানিয়েছেন বারোপেটিয়া এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের লোক এরা৷ এরাই তান্ডব চালিয়েছে। মদ খেতে বাধা দেওয়ায় মহিলাদের শ্লীলতাহানি করেছে। আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।’’
ঘটনায় কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘‘আমি অসুস্থ হয়ে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন। এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না।’’ তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যানী বলেন, ‘‘ভোরের আলোয় কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আইন আইনের পথে চলবে।’’
এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এতদিন এই এলাকায় তৃণমূলের দাপট ছিল। কিন্তু এখন সেই রাশ চলে যাচ্ছে বিজেপির হাতে। এলাকার দখল ছাড়তে নারাজ দু’পক্ষই। তা থেকেই সমস্ত অশান্তির সূত্রপাত। আজ ওই এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায়। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।