রফিকুল জামাদার
গত ২১ জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানের পর পরই মাইলস্টোন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলে বহুদিন ধরে চলে আসা জেলা পর্যবেক্ষক পদটাই তুলে দিয়েছিলেন তিনি।
তখন অনেকেই অনুমান করেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশেই পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেওয়া হল। পরে দিদির স্মল টাইম এইড প্রশান্ত কিশোর এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলিই বুঝিয়ে দেন, ব্যাপারটা তাই। শুভেন্দুর ব্যাপারে তাঁদের আগাম সন্দেহ ছিল বলেই...।
এখন শুভেন্দু অধিকারী নেই। তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানও হয়েছেন। এবং এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ফের পর্যবেক্ষক সিস্টেম ফিরছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মুখে অবশ্য পর্যবেক্ষক বলা হচ্ছে না। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, ঘরোয়া ভাবে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে মালদা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া ও হুগলি জেলা দেখতে বলা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে বলা হয়েছে নদিয়া ও জঙ্গলমহল। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে বলা হয়েছে কোচবিহার ও দুই দিনাজপুর দেখতে। পূর্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দেখবেন দুই বর্ধমান, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার। আর দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা দেখবেন শুভাশিস চক্রবর্তী।
ভাল করে দেখলে বোঝা যাবে যে শহিদ দিবসের আগে পর্যন্ত তাঁরা এই জেলাগুলিই দেখতেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই তালিকায় নেই তরুণ এক মন্ত্রীর নাম। তিনি বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটের পর যাঁকে কখনও নদিয়া কখনও কালিয়াগঞ্জে উপনির্বাচনের সময়ে পর্যবেক্ষক করেছিল দল।
এ ব্যাপারে দিদির একটা সাম্প্রতিক মন্তব্যও প্রাসঙ্গিক। সম্প্রতি বাঁকুড়ায় দলের একটি কর্মিসভা থেকে দিদি বলেছিলেন, প্রতিটি ব্লকে আমিই পর্যবেক্ষক।
তবে তৃণমূলের উপরের সারির এক নেতার কথায়, এটা হয়তো বলার জন্য বলা। জেলাওয়াড়ি একজন রাজ্য নেতার পর্যবেক্ষক পদে থাকা জরুরি। নইলে সবটা দিদি একা দেখতে গেলে চাপ হয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারটা জানাজানি হতে দলের একাংশের মধ্যে অন্য প্রশ্নও অবশ্য উঠছে। ঘরোয়া আলোচনায় তাঁরা বলছেন, এঁদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন, যাঁরা পর্যবেক্ষক হিসাবে ডাহা ফেল করেছেন। তাঁরা যে জেলাগুলোয় পর্যবেক্ষক ছিলেন সেখানে অস্থিরতা দমন করতে পারেননি, উল্টে গোষ্ঠী কোন্দল মাথাচাড়া দিয়েছে। নতুন করে ফের এঁদেরই দায়িত্ব দিলে তা কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে চিন্তা থেকে গেল।
তৃণমূলের দলীয় প্রতিক্রিয়া: বৃহস্পতিবার সকালে অবশ্য তৃণমূলের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, কয়েকটি জেলায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন কয়েকটি মিডিয়াতে প্রকাশ হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এরকম কিছুই হয়নি।