দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক যেন সিনেমা!
যৌনপল্লীর ঘুটঘুটে অন্ধকার থেকে সংসারের আলো। তরুণীর জীবন বদলে দিলেন এক ব্যাগ কারখানার শ্রমিক। সমস্ত অতীত আস্তাকুঁড়ে ফেলে নতুন ঘর বেঁধেছেন ওঁরা। এই কলকাতাতেই।
হলদিয়ায় থাকত ওই তরুণীর পরিবার। রাস্তার ধারে ভাতের হোটেল ছিল তাঁর বাবার। অভাবের সংসার। তার মধ্যেই বেড়ে উঠছিল মেয়েটা। তখন তার বছর ১৫ বয়স। অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল বাবার। যে হোটেলটা থেকে মাস চালানোর মতো টাকা তবু ঘরে আসত, সেটাও লাটে উঠল। অভাব আরও জাঁকিয়ে বসল পরিবারে।
ওই তরুণী একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “একদিন আমার দিদা হঠাৎ করে আমায় মারতে শুরু করল। লাথি মেরে বের করে দিল বাড়ির বাইরে। মায়ের ক্ষমতা ছিল না ঠেকানোর। ওই জামা কাপড়েই আমি বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে।”
এরপরই ওই তরুণী জানান সেদিন দুপুর বেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর সন্ধের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিলেন ‘নরকে।’ হলদিয়া থেকে মেচেদা স্টেশনে এসে বসেছিল বছর ১৫-র মেয়েটা। দোকানে দোকানে ঘুরে বলছিল, ‘একটা কাজ দেবে গো!’ এমন সময়েই দু’জন লোক এসে পরিচারিকার কাজের প্রস্তাব দেয় তাকে। সেই সঙ্গে দু’বেলা খাওয়া-পরা। রাজি হয়ে যায় বাড়ি থেকে অভাবের তাড়নায় বিতাড়িত কিশোরী। এরপর তাকে তোলা হয় গাড়িতে। ওই দু’জন খাবার দেয় তাকে। তরুণী জানিয়েছেন, “খাবার খাওয়ার পর আমার আর হুঁশ ছিল না। যখন চোখ খুলি, তখন দেখি আমায় একটি যৌনপল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
ওই তরুণীর বক্তব্য, দু’দিন পরেই খদ্দেরদের সামনে ঠেলে দেওয়া হয় তাকে। দালালদের চক্র ঘিরে থাকত সর্বক্ষণ। পালানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। একাধিকবার দালালদের হাতে বেধড়ক মার খেতে হয়েছিল। এ ভাবে বছর তিনেক চলার পর ১৮ বছর ছুঁই ছুঁই যখন তাঁর বয়স, তখনই জীবনের মোড় ঘুরে যায়।
কী ভাবে?
ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে তল্লাশি চালানো হয় যৌনপল্লীতে। নাবালিকাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করানো হচ্ছে কিনা তার জন্যই তল্লাশি। তাঁদের কাছেই নিজের কথা খুলে বলেন ওই তরুণী। যৌনপল্লীর অন্ধকার ঘুচে যায়।
তাঁকে নিয়ে আসা হয় নরেন্দ্রপুরের একটি হোমে। সেখানেই নানান কাজ শিখতে থাকেন। বেকারির কাজে ক্রমেই পারদর্শী হয়ে ওঠেন ওই তরুণী। কাজ জুটে যায় পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী বেকারিতে। আর সেখানে কাজ করতে করতেই আলাপ হয় কসবার ব্যাগ কারখানার শ্রমিকের সঙ্গে।
ওই তরুণী আরও জানিয়েছেন, দু’জনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার পর তিনি কিছু লুকোননি। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া থেকে যৌনপল্লীর গা ঘিনঘিন করা জীবন—সব খুলে বলেছিলেন। ওই যুবক তাঁকে আগলে রাখার আশ্বাস দেন। সব অতীত ভুলে সংসার পাতার প্রস্তাবও দেন। আপাতত সংসার পেতেছেন ওঁরা। ব্যাগ কারখানা আর বেকারি শ্রমিকের সংসারে এখন বিলাসিতা না থাকলেও অন্য আলো রয়েছে। আর সেটা নিয়েই বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চান দু’জন।