দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জুলাই মাস বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বাড়তি তাৎপর্য বয়ে আনে। ২১ শে জুলাই শহিদ স্মরণ। এই দিনে প্রতিবছর শপথ নেয় গোটা একটা দল। এবার সেই জুলাই মাসের দ্বিতীয় দিনে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে খানিক মুখ পুড়ল তৃণমূলের। দলের প্রতি ক্ষোভে বাবা-দাদাদের শহিদবেদী ভেঙে দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য অনন্ত কেশ। রাজ্যে তৃণমূলের তৃতীয়বারের শপথের দু’মাস পূর্ণ হল শুক্রবার। সেই দিনে এমন অনভিপ্রেত ঘটনায় সাড়া পড়ল গোটা জেলাজুড়ে।
১৯৮৫ সালে ২ জুলাই বেলাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তৎকালীন কংগ্রেস নেতা কমলাকান্ত কেশের বাড়ি ঘেরাও করেছিল দুষ্কৃতীরা। অনন্তবাবুর বাবা কমলাকান্ত কেশ এবং তাঁর দুই দাদা অশোক ও অসীম কেশকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন কমলাকান্তবাবুর ছোট ছেলে অনন্ত কেশ। দুষ্কৃতীরা প্রত্যেকেই সিপিএম আশ্রিত বলে অভিযোগ।
ওই গণহত্যার স্মরণে বেলাড়ি গ্রামে বিল্বগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ের সামনে তৈরি হয় শহিদ বেদিটি। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই করা হত শহিদস্মরণ। এদিনও নেওয়া হয়েছিল শহিদ স্মরণের প্রস্তুতি। তার আগেই সকালবেলা অনন্ত কেশ শাবল দিয়ে ওই শহিদ বেদি ভেঙে দেন। তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি এই ঘটনা অস্ত্রে শান দেবে বিজেপিরও। ক’দিন ধরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলে আসছেন দলীয় কোন্দলেই শেষ হয়ে যাবে তৃণমূল।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য অনন্তবাবু বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আমার নিহত বাবা দাদাদের প্রতি মর্যাদা দেয়নি। আমার পরিবারের প্রতি অবিচার করেছে। তাই শহিদ বেদি ভেঙে দিয়েছি।” কেশবাড়ি গণহত্যার দিন শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকেই শহিদবেদী ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
জানা গেছে, সপ্তাহ দু'য়েক ধরেই পাড়ার জল নিকাশের নালা নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে অনন্ত কেশের সংঘাত চলছে। অনন্তবাবুর অভিযোগ, পাড়ায় সরকারি জায়গার ওপর নিকাশি নালাগুলি অবরোধ করে ঘর করেছে কয়েকজন। সেসব নালা সংস্কার হচ্ছে না। অথচ তৃণমূল নেতাদের মদতে জোর করে তাঁদের জায়গার ওপর দিয়ে নালা কেটে জল নিকাশির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে জানিয়েও ফল হয়নি। তিনি বলেন, “দল আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করেছে। বর্তমান শাসকদল অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কথা রাখেনি। আমাদের পরিবারের দিকে ফিরেও তাকানো হয়নি।”
বিল্লগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফাল্গুনী গোস্বামী বলেন, “আজকের এই ঘটনার নিন্দা করছি। দলের পক্ষ থেকে অনন্ত কেশকে পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। দল কেশ পরিবারের সদস্যদের যথার্থ সম্মান দিয়েছে । অনন্ত কেশ মিথ্যা অভিযোগ করছেন।”
রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, “খোঁজ খবর নিয়ে জানতে হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেশ পরিবারকে যোগ্য সম্মান দিয়েছেন।”