শিলের উপর দাঁড়িয়েছে নোড়া, গুজব ছড়াতেই করোনা তাড়াতে পুজোয় মাতলেন মানুষ
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: করোনাভাইরাস তাড়াতে গোমূত্র খাওয়া হয়েছে, কাঠকয়লা দিয়ে টিপ পরানো হয়েছে কপালে। এবার শিলের উপর নোরা দাঁড় হতেই চলল পুজোপাঠ।
স্বয়ং মহাদেব করোনাভাইরাস তাড়াতে ভর করেছে শিল নোড়ায়। রবিবার রাতে এমন গুজব ছড়িয়ে পরে শ্রীরামপুরে।
শেষ আপডেট: 6 April 2020 05:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: করোনাভাইরাস তাড়াতে গোমূত্র খাওয়া হয়েছে, কাঠকয়লা দিয়ে টিপ পরানো হয়েছে কপালে। এবার শিলের উপর নোরা দাঁড় হতেই চলল পুজোপাঠ।
স্বয়ং মহাদেব করোনাভাইরাস তাড়াতে ভর করেছে শিল নোড়ায়। রবিবার রাতে এমন গুজব ছড়িয়ে পরে শ্রীরামপুরে। দলে দলে লোক ছুটে আসতে থাকেন চন্দ্রমোহন রায় লেনে। এই পাড়াতেই বাস দাস পরিবারের। বাড়ির বধূ চন্দনা দাস বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর ডাকে রাত ন’টায় মোমবাতি জ্বালানো হয়। বাড়িতে তখন রান্না হচ্ছিল। মোমবাতি জ্বালানো হয়ে যাওয়ার পর শিল-নোড়া ধোয়ার সময় শিলের ওপর দাঁড়িয়ে যায় নোড়া। হেলালেও হেলছে না। সবাই অবাক হয়ে যাই। বাড়ির লোক বলে স্বয়ং মহাদেব এসেছেন এই দুঃসময়ে পৃথিবীকে রক্ষা করতে। তখনই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে দুধ দিয়ে পুজো করা হয়।’’

এই ঘটনা চাউর হতে সময় লাগেনি বিশেষ। ওই রাতেই দলে দলে এলাকার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন দাসবাড়িতে। কোথায় তখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ভাবনা?
শিল-নোড়াকে পুজো দেওয়ার ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে। হিড়িক পরে যায় মোবাইল ফোনে শিল-নোড়ার ছবি তোলার। বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য চন্দন দেবনাথ বলেন, ‘‘মাতামাতি করার মতো কোনও ঘটনাই নয় এটা। আমরা কোনোওদিন শিলের উপর নোড়া দাঁড় করাইনি, তাই মনে হচ্ছে অলৌকিক ব্যাপার। এটা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফল।’’
শ্রীরামপুরের হুজুগ অবশ্য রাতারাতি ছড়িয়ে যায় চুঁচু্ড়া-সহ হুগলির অন্যান্য জায়গাতেও। সব জায়গা থেকেই খবর আসতে শুরু করে শিলের উপর দাঁড়িয়েছে নোড়া। সামাজিক দূরত্ব মাথায় তুলে চলে পুজো পাঠ। করোনা তাড়াতে গিয়ে বিপদ একেবারে ঘরের দুয়ারে ডেকে আনা হচ্ছে না তো? পুজো করার ব্যস্ততায় এ প্রশ্ন তলিয়ে ভাবার অবকাশ অবশ্য ছিল না ভিড়ে জমায়েত হওয়া কারোরই।