দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: পুলিশ হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রায়গঞ্জে। পুলিশের দাবি হেফাজতে থাকা একটি ডাকাত দলের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই যুবকের নাম পায় তারা। বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসলে সে অসুস্থ বোধ করে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত যুবকের নাম অনুপ রায় (২৩)। বাড়ি ইটাহার থানার নন্দনগ্রামে। ওই যুবকের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ বিজেপি করার অপরাধে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর লকআপে পিটিয়ে মারা হয় তাকে। মৃত্যুর পর থানা থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরে বড় বড়ুয়া নামে এক জায়গায় তার মৃতদেহ ফেলে রেখে মৃত ওই যুবকের দুর সম্পর্কের এক ভাইকে দিয়ে মৃতদেহ সনাক্ত করিয়ে তড়িঘড়ি রাতেই ময়নাতদন্ত করায় পুলিশ৷। মৃতদেহও রাতেই সৎকারের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু বাড়ির লোক ও পড়শিরা জেনে ফেলায় তা সম্ভব হয়নি। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ।
মৃত ওই যুবকের মা গীতা রায় অভিযোগ করেন, সুস্থ অবস্থাতেই তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। থানায় নিয়ে পিটিয়ে মেরেছে। বিজেপি করাতেই খুন করা হয়েছে তাঁর ছেলেকে। ভাল খেলোয়ার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি ছিল ওই যুবকের। ফুটবল, বাস্কেটবল খেলায় একাধিক মেডেল ও ট্রফি সাজানো রয়েছে তাঁর ঘরে। পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরির খোঁজে ছিল বলে জানিয়েছেন অনুপের বাড়ির লোক। বিজেপির কর্মী হিসেবেই তাঁকে চেনেন এলাকার মানুষ।
বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী অভিযোগ করেন, নন্দনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা অনুপ রায় বিজেপি কর্মী ছিলেন। তাই ওই যুবককে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে এনে পিটিয়ে মেরেছে। মৃত ওই যুবক কিছুদিন আগেই বিজেপিতে যোগদান করেন বলে দাবি বিজেপির জেলা সভাপতির। তিনি বলেন, ‘‘থানায় পিটিয়ে মারার পর বুধবার রাতেই তড়িঘড়ি তার মৃতদেহ কড়া পুলিশি পাহারায় রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। নিয়ম মেনে দিনের আলোয় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানাচ্ছি আমরা।’’
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘আগের একটি মামলায় রিমান্ডে পাওয়া কিছু আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই যুবক। রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’’
এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা শহরে।