দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হল হিন্দমোটরে। অভিযোগ প্রতিবেশীরা মারধর করায় অপমানে ওই যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন। কয়েকদিন আগে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাঁর স্ত্রীর। সেই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। জেল থেকে ফিরতেই এই ঘটনা।
হিন্দমোটরের সুকান্ত সরণিতে রবিবার দেহ উদ্ধার হয় কুন্তল বোস(৩৩) নামে ওই যুবকের। কুন্তলকে মারধর ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
আড়াই মাস আগে কুন্তলের স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। কুন্তলের জন্যই তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হন কুন্তল। দিন কুড়ি আগে জেল থেকে ছাড়া পেলে রবিবার সন্ধায় বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরতেই প্রতিবেশীরা তার উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পাশাপাশি মারধর করা হয় তাঁকে। ওই বাড়ির পাশেই থাকেন কুন্তলের দিদি। তাঁকেও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। ওই মহিলাকে একটি ক্লাবের সামনে বসিয়ে রেখেই কুম্তলকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
এরপরেই ওই যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় গোটা ঘটনার ভিডিও আপলোড করে ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন। মৃতের দিদি স্নিগ্ধা দাশগুপ্ত উত্তরপাড়া থানায় প্রতিবেশীদের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি নেতার উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে।’’ উত্তরপাড়ার বিধায়ক তৃনমূল নেতা প্রবীর ঘোষাল জানান, তাঁর কাছেও অভিযোগ এসেছে ওই যুবক ও তার দিদিকে মারধর ও হেনস্থার পিছনে বিজেপি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ওই যুবক যদি কোনও ঘটনায় অভিযুক্ত হয় তার জন্য আইন আদালত আছে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’’
বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল বসু বলেন, ‘‘তৃণমূলের কাজই হল বিজেপির নামে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া। একটা ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি, স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই যুবককে মারধর করেছে পড়শিরা। এর সঙ্গে বিজেপি কোনওভাবেই জড়িত নয়।’’
এই ঘটনায় ছয় মহিলা সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করে শ্রীরামপুর আদালতে পাঠায় পুলিশ।